টাইমলাইনবাংলাদেশ

চোরাপথে ইউরোপ পালাতে গিয়ে সাগরে ডুবে মৃত্যু হল ১৭ জন বাংলাদেশীর

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গত মাসে ২৪ জুন চোরাপথে বাংলাদেশ থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে বিদেশ যাত্রা করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিলেন বাংলাদেশ ও মিশরের প্রায় ২৬৭ জন অধিবাসী। শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে তাদের উদ্ধার করে টিউনিশিয়া কোস্ট গার্ড। বাংলাদেশ,মাল্টা সুদান, মিশর থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছরই পাড়ি দেন বেশকিছু অভিবাসী। মূলত জীবিকার সন্ধানেই তাদের বেছে নিতে হয় এই ভয়াবহ পথ।

কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দালালরা তাদের উঠিয়ে দেয় রাবারের ডিঙা কিম্বা ছোট ছোট নৌকায়। ভার বজায় রাখতে না পেরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভূমধ্যসাগরের তীব্র ঢেউয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়ে নৌকাগুলি। যার জেরে এর আগেও মৃত্যু হয়েছে একাধিক বাংলাদেশী অভিবাসীর। ফের একবার এমনই এক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকলো ভূমধ্য সাগরের নীল জল।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে এই দুর্ঘটনায় সলিল সমাধি হয়েছে ১৭ জন বাংলাদেশী অভিবাসীর। লিবিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের জুয়ারা থেকে সিরিয়া, মিশর, সুদান, মালি ও বাংলাদেশের অভিবাসীদের নিয়ে ইটালির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল একটি নৌকা। কিন্তু বেশি দূর এগোনোর আগেই অতিরিক্ত ভারের কারণে ভারসাম্য হারায় নৌকাটি এবং শেষ পর্যন্ত তিউনিসিয়ার উপকূলে জলের মধ্যে তলিয়ে যায়। টিউনিশিয়া কোস্টগার্ড রেড ক্রিসেন্টের তরফে জানানো হয়েছে, “এই ঘটনায় ১৭ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৮০ জনের বেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে যারা লিবিয়ার জুয়ারা থেকে ইউরোপের পথে রওনা দিয়েছিল।”

জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে বিদেশযাত্রার পরিমাণ গত কয়েক বছরে ভীষণভাবেই বেড়েছে। দেশে বাড়তে থাকা বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক ভাঙনের জেরে স্বপ্নের সন্ধানে প্রতিবছরই এধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে সামিল হন বাংলাদেশি অভিবাসীরা। আর তাদের মধ্যে সলিল সমাধি হয় অনেকেরই। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ১৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে চোরাপথে ইউরোপ যেতে গিয়ে। ২০১৪ সাল থেকে ধরলে এখনও পর্যন্ত এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্র অভিযানে মৃত্যু হয়েছে ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষের।

 

Related Articles

Back to top button