বাংলাহান্ট ডেস্ক : সাম্প্রতিককালে বিশ্ব অর্থনীতিতে আর্থিক কোন্দল ও দেশীয় বাজারে চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় অনেকটাই মন্থর হয়েছে ভারতের (India) অর্থনীতির বিকাশ। তবে এই পরিস্থিতিতেও বিশ্ব ব্যাংক মনে করছে ‘আদর্শ লগ্নিস্থল’ ভারত। ‘অ্যাডভান্টেজ অসম ২.০’ বাণিজ্য সম্মেলনে ভারতের বিশ্ব ব্যাঙ্কের ডিরেক্টর অগস্ত তানো কউমে ভারতের অর্থনীতি নিয়ে দেখালেন আশার আলো। এই সম্মেলন থেকেই উদ্যোগপতিদের ভারতে লগ্নি করার ডাকও দেন তিনি।
ভারতের (India) অর্থনীতি নিয়ে বড় খবর
‘অ্যাডভান্টেজ অসম ২.০’ বাণিজ্য সম্মেলনে আজ অগস্ত তানো কউমে বলেন, ‘‘ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির গতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নই। জিডিপি বৃদ্ধির হার এক শতাংশ বিন্দু হেরফের হলেও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে না। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে যদি কেউ চিন্তিত হন, তা হলে আমরা তাঁদের আশ্বস্ত করতে চাই। বিশ্বের নিরিখে ভারত একটি উজ্জ্বল আলো। আপনি যদি বিনিয়োগ করতে চান, তা হলে এখানে এসে করুন।’’
আরোও পড়ুন : এজি-র পর কল্যাণ! হাইকোর্টে কী এমন বললেন যে বাধ্য হয়ে দুই মামলা ছাড়লেন বিচারপতি বসু?
পাশাপাশি আজই ডয়েশ ব্যাঙ্কের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ‘ক্রমশ অর্থনৈতিক শ্লথতা কাটিয়ে উঠছে ভারত। অক্টোবর-ডিসেম্বরে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার পৌঁছে যাবে ৬.২ শতাংশে।’ চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) জিডিপি (GDP) সংক্রান্ত সরকারি পরিসংখ্যান এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে তার আগে বিশ্ব ব্যাঙ্ক কর্তা ও ডয়েশ ব্যাঙ্কের এই ভবিষ্যৎবাণী নিঃসন্দেহে আশা জোগাবে লগ্নিকারীদের মধ্যে।
আরোও পড়ুন : পড়ুয়াদের গোপনাঙ্গে হাত! কাঠগড়ায় ২ শিক্ষিকা, বেতন না দেওয়ায় কদিন আগে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন তারাই
এরইমধ্যে আবার আমেরিকার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুল্ক কমানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করছে ভারতের (India) উপর। ১০-১৪ মার্চ ব্রসেলসে ভারত-ইইউ-র বাণিজ্য বৈঠকের আগে রাষ্ট্রগোষ্ঠীর এক কর্তা জানিয়েছেন, গাড়ি, ওয়াইন-সহ বিভিন্ন পণ্যে আমদানি শুল্ক হ্রাসের জন্য ভারতের উপর চাপ বৃদ্ধির নীতি গ্রহণ করা হবে। তার পরিবর্তে ভারতকে তারা তাদের গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিতে কৃষি পণ্যের রফতানি বৃদ্ধির সুবিধা প্রদান করবে।
ব্রাসেলসে মুক্ত বাণিজ্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে ওই কর্তা জানিয়েছেন, ‘‘ভারতের বাজার ততটা মুক্ত নয়। বিশেষত ইইউ এবং তার সদস্য দেশগুলির নানা পণ্যের জন্য। তার মধ্যে গাড়ি, ওয়াইন ও মদ অন্যতম।’’ সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ইইউ রাষ্ট্রগোষ্ঠী হিসাবে ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য সহযোগী। গত আর্থিক বছরে হয়েছে ১২,৬০০ কোটি ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। ৯০ শতাংশ বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে এক দশকে। ভবিষ্যতে রফতানি বৃদ্ধির জন্য তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরী ভারতের।