টাইমলাইনদুর্গা পূজো ২০১৯

ফিচার| “ওদের ও পুজো আসে।”

 

বাংলা হান্ট ডেস্ক: রাস্তার মোড়ে বাঁশের কাঠামো তৈরি। আলোক সজ্জা শুরু হয়েছে। রাস্তার ধারে সারি সারি দোকান গুলোয় খদ্দের দের ভিড়। কেউ কিনছে নতুন জামাকাপড়, কেউ বা খাবারের দোকানে ভিড় জমিয়েছে মুখরোচক খাবারের আশায়। একদল লোক যাচ্ছে শপিং মল গুলির উদ্দেশ্যে। আশেপাশের পরিবেশ জানান দিচ্ছে, পুজো আসছে। সময় হচ্ছে উমার ঘরে ফেরার। আকাশে বাতাসে শুধু নয়, মানুষের মনেও খুশির রং লেগেছে। রাস্তায় হেটে চলা মানুষগুলোর হাতে রং বেরঙের প্যাকেট এবং বাক্স। কোনোটা বিগ বাজার, কোনোটা উত্তরা মার্কেট, কোনোটা বাজার কলকাতার। কোনোটাতে দামি রংবেরঙের নতুন পোশাক, কোনোটাতে নতুন জুতো, তো কারুর কাছে নতুন সাজ গোজের জিনিস। কেউ বা ছুটছে পার্লারের দিকে। শ্রেষ্ঠ উৎসবের আগে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে হবে সেরা রূপে। শ্যামবাজার পাচ মাথার মোড়ে তখন তুমুল ব্যস্ততা। তার মাঝে কেউ খেয়াল ই করেনি  ছেড়া ময়লা জামা পড়া, উস্কো খুস্কো চুলের সেই বছর সাতেকের ছোট্ট মেয়েটিকে।একটা দোকানে হরেক রকমের জামার পসরা সাজিয়ে দোকানদার ডাক দিচ্ছে খদ্দের দের। মেয়েটি চুপ করে দাড়িয়ে এক চোখে দেখছিল নতুন সেই জামাকাপড় গুলোকে। মেয়েটির নাম শিউলি। পাচ মাথার কাছেই ফুটপাথে মায়ের সাথে থাকে সে, আর দেখে আশেপাশে সু সজ্জিত মানুষ গুলোকে।বেশিক্ষণ দাড়াতে পারেনি। হঠাৎ, মনে পড়ে গেল, ভীষন খিদে পেয়েছে। পাশেই মোমো চাউমিন এর দোকানে লম্বা লাইন।মানুষ জনের হাতে নতুন জামা কাপড়ে ভরা প্যাকেট।কিন্তু তার হাতে যে টাকা নেই হাতে! কয়েক জনের কাছ থেকে চাইলো কিন্তু দু পয়সার একটা কয়েন ছাড়া কিছুই জুটলো না। এভাবেই সারাদিন পর কিছু খুচরো আর কয়েকটা দশ টাকার নোট জমিয়ে মায়ের কাছে নিয়ে গিয়ে মাকে সে প্রশ্ন করলো, ” মা আমাদের পুজো তে নতুন কিছু হবেনা? সবাই কত্ত কিছু কিনছে।” মা বললো ” হবে তো। মা আসছে যে ঘরে, তোকে কাচের চুড়ি কিনে দেব। আর দেখবি, মা ঘরে থাকবে যখন আমরা ঐ সামনের দোকান থেকে একদিন ওই বাবুদের মতন চাউমিন কিনে খাবো”।

হ্যা, এভাবেই ওদের পুজো আসে। এভাবেই মা আসে ওদের কাছে। ওরা খেতে পায় সেই কদিন। একটু বেশি দশ টাকার নোট জমে ঝুলিতে। হ্যা, ওদেরও পুজো আসে। মা আসে সবার জন্য।

 

-স্বপ্ন প্রিয়া ঘোষাল

Leave a Reply

Close
Close