টাইমলাইনভারতসাফল্যের কাহিনি

না বড় ডিগ্রী, না কোনও মাধ্যম! জুগাড় থেকে বিদ্যুত বানান দ্বাদশ পাস এই ‘বিদ্যুৎ ম্যান’!

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মানুষের ভিতরে প্রতিভা থাকলে আর কোনো ডিগ্রির প্রয়োজন পরেনা। একথাই যেন প্রমাণ করলেন ঝাড়খণ্ডের রামগড়ের ভিয়াং গ্রামের কেদার প্রসাদ মাহাতো। ছোট বয়সে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যায় পাওয়া যুবক বর্তমানে নিজেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যস্ত। স্কুলে পড়ার সময় বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখলেও কেদার স্বপ্নেও ভাবেনি একদিন সে গোটা গ্রামের জন্য বিদ্যুৎ তৈরি করবে। কিন্তু বর্তমানে পরিশ্রম ও মন দিয়ে করা কাজই তাকে বানালো ‘পাওয়ার ম্যান’।

পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান কেদার কিছুদিন রাঁচিতে কাজ করলেও তার স্বপ্ন ছিল সব সময় গ্রামে থেকে কিছু করার। 2004 সালে স্কুলে পড়াকালীনই নদীর জল ব্যবহার করে 12 ভোল্ট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল হয় সে। তা থেকেই শুরু হয় কেদারের যাত্রা।

বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে পাওয়া এই সাফল্য তাকে আরও উৎসাহিত করে। সে বলে, “আমি আমার গ্রাম থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে এক নদীতে প্রথম পরীক্ষাটি করি। নদীর মাঝখানে একটি কংক্রিটের স্তম্ভ তৈরি করে আর্মেচার, চুম্বক ও অন্যান্য অংশ দিয়ে একটি টারবাইন তৈরি করি। এইভাবে ধীরে ধীরে একটি সেটআপ তৈরি করতে অনেক বছর লেগে যায়।” সে জানায় যে, এটি তৈরি করতে তার প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয় যার মধ্যে বন্ধুদের সহায়তা ছিলো বলে জানায় সে।

সে বলে, “এই টারবাইনটি একবারে 100 ওয়াটের 40 থেকে 45 টি বাল্ব জ্বালার ক্ষমতা রাখে।” কৃষক পরিবারের হওয়ায় শুরুতে সবাই তাকে বকাবকি করলেও আজ গ্রামের সবাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। গ্রামের প্রধান সুরজ নাথ কেদারের প্রশংসা করে বলেন, “সম্প্রতি সরস্বতী পূজার সময় গ্রামে বিদ্যুৎ চলে যায়, সেই সময় কেদার তার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দেওয়ায় অনেক সুবিধা হয়।”

Related Articles