টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

১৫ দিন পর উলঙ্গ করতে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব! কাঁথি থেকে শুভেন্দুকে হুমকি অভিষেকের

বাংলাহান্ট ডেস্ক: শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক কাঁথি। আর কাঁথিতে শুভেন্দুর ঠিকানা শান্তিকুঞ্জ। সেই শান্তিকুঞ্জ থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে প্রভাত কুমার কলেজের মাঠে জনসভা করলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই প্রথম কোনও জনসভায় বক্তব্য রাখলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এ দিন সভামঞ্চ থেকে বিরোধী দলনেতার উদ্দেশ্যে কার্যত চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি।

সভামঞ্চ থেকে নাম না করে অভিষেকের হুঙ্কার, “আমি ১৫ দিন পর আবার এখানে সভা করতে আসব। মানুষের সামনে উলঙ্গ করতে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।” টেন্ডার দুর্নীতি নিয়ে বিরোধী দলনেতার উদ্দেশ্যে তোপ দাগলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এ বারের পঞ্চায়েত ভোটের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের দিকে বাড়তি নজর রয়েছে তৃণমূলের। জেলা ও ব্লক স্তরের মধ্যে সমন্বয় আনার জন্য কুণাল ঘোষকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। শনিবার কাঁথিতে সভা করে অভিষেক কার্যত স্পষ্ট করে দিলেন, এ বারের পঞ্চায়েত ভোটে পূর্ব মেদিনীপুরে জিততে মরিয়া তাঁরা।

Abhishek Banerjee

কাঁথির সভা থেকে অভিষেক বলেন, “২০১৫ সালে কলেজের গার্লস হোস্টেল তৈরির জন্য ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার টেন্ডার বেড়িয়েছিল। ৮৫ লক্ষ টাকার বেশি পেমেন্টও হয়েছিল। ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার কাজে কোনও নিয়ম ছাড়াই ২ কোটি ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। তরুণীতা এন্টারপ্রাইজ নামক একটি সংস্থাকে কোনও টেন্ডার ছাড়াই কাজের বরাত দেওয়া হয়।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, টেন্ডার নিয়ে একটি নেক্সাস চালাচ্ছেন এক কন্ট্রাক্টর।

তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড এ দিন সভামঞ্চ থেকে বলেন, “কথায় কথায় আমাকে তোলাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত বলে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। আজ ৩ তারিখ। আগামী ৫ থেকে ৮ তারিখ দিল্লিতে থাকব। ঠিক ১৫ দিন সময় দিয়ে গেলাম। এই কলেজের মাঠে আবার সভা হবে। তুমি তোমার খাতা নিয়ে আসবে। আমি আমার খাতা নিয়ে আসব। মানুষের সামনে উলঙ্গ করতে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।” 

TMC rally

অভিষেকের কটাক্ষ, দুর্নীতি করে পিঠ বাঁচানোর তাগিদেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “টিভির পর্দায় কাকে ঘুষ নিতে দেখা গিয়েছে?” উল্লেখ্য, অভিষেকের সভার আগের রাতে পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগরে বোমা ফেটে প্রাণ হারিয়েছেন তৃণমূলের বুথ সভাপতি সহ ৩ জন। এ দিন সভামঞ্চ থেকে বিজেপি-র ‘ডিসেম্বর ধামাকা’-কে কটাক্ষ করে তৃণমূলের পাল্টা ‘বেইমান তাড়াও’ কর্মসূচির ঘোষণা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি বলেন, “আজ বুঝতে পারলাম ডিসেম্বরে কী হবে। উনি টুইট করে বলেছেন, যে বোমটি কাঁথিতে মারার কথা ছিল, সেটি ফেটেছে। এর মানে কী? ওই বোমটির লক্ষ্য ছিলাম আমি। আজকের সভায় কী প্ল্যান ছিল? এটাই বিজেপি-র ডিসেম্বর ধামাকা? তুমি কি ভাবছো, তুমি কোথায় কালিপটকা ফাটাবে, আর অভিষেক ভয়ে পালিয়ে যাবে? তুমি লেজ গুটিয়ে পালানোর পার্টি, আমি বুক চিতিয়ে লড়ার পার্টি।”

Abhishek Banerjee Kathi Rally

পূর্ব মেদিনীপুরকে অধিকারী গড় হিসেবে বলা পছন্দ নয় অভিষেকের। তিনি বলেন, “কী ভাবে এটি অধিকারী গড়? যদি ১৬টি আসনের মধ্যে ৯টি তৃণমূল পায়? পুরভোটেও হলদিয়া ও পাঁশকুড়া বাদে বাকি তিনটিতে তৃণমূল জিতেছে। তাহলে এটা অধিকারী গড় কী ভাবে? এটা তৃণমূলের গড়। আমি পূর্ব মেদিনীপুরের মানুষের গড়ে এসেছি।” এ দিন সভামঞ্চে আসার পথে মারিশদা গ্রাম ঘুরে দেখেন। সেই কথাও তুলে ধরেন এ দিনের সভামঞ্চ থেকে। 

অভিষেক এ দিন বলেন, “গ্রামবাসীরা জানালেন, অধিকারী পরিবার তাঁদের দিকে মুখ তুলে তাকায় না। মারিশদার ৫ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান কখনও যায়নি । আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান, উপপ্রধান, অঞ্চল সভাপতির পদত্যাগপত্র চাই। যদি তা না হয়, তাহলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ করব।” স্পষ্টত জানিয়ে দেন, তাঁরা যে দলই করুন না কেন, পরিষেবা সবাইকেই দিতে হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে দলীয় নেতা ও কর্মীদের ১০টি করে গ্রামে যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। 

Related Articles