টাইমলাইনভারত

‘অগ্নিপথ” বিতর্কে অগ্নিগর্ভ বিহার, স্টেশন থেকে তিন লাখ টাকা লুঠ করল আন্দোলনকারীরা

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কেন্দ্র সরকারের নতুন প্রকল্প ‘অগ্নিপথ’ ঘোষণা করার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগ সংক্রান্ত প্রকল্পটির বিরোধে উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদে নেমেছে অসংখ্য মানুষ। এই ঘটনায় ক্রমশই দেশের পরিস্থিতি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে আর এবার বিহারের বিহিয়া রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে তিন লক্ষ টাকা চুরি হওয়ার অভিযোগ সামনে এলো।

শুধু তাই নয়, পরবর্তীকালে আন্দোলনকারীরা যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে প্রতিবাদে নেমেছে। স্বভাবতই, এই ঘটনায় ব্যাহত হয়েছে জনজীবন। তবে এ সকল রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিহারে দু’শোর অধিক আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারি প্রক্রিয়া দ্রুত হারে শুরু করে দিয়েছে পুলিশ।

অপরদিকে, উত্তরপ্রদেশে আলিগড়, বারাণসী, গৌতম বুদ্ধ নগর এবং বালিয়া জেলা সহ একাধিক প্রান্তে শান্তি বিঘ্নিত করে চলেছে কিছু শ্রেণীর মানুষ। এক্ষেত্রে বর্তমানে 260 জন বিক্ষোভকারীকে হেফাজতে নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। সূত্রের খবর, বালিয়া থেকে 109 জন, মথুরায় 70 এবং গৌতম বুদ্ধ নগর থেকে 15 জনকে গ্রেফতার করেছে প্রশাসন। এক্ষেত্রে বিক্ষোভ না থামালে পরিস্থিতি কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্র সরকার দ্বারা ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পটি ঘোষণা করার পর থেকে দেশের একাধিক প্রান্তে বিক্ষোভের চিত্র উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকার দ্বারা বলা হয় যে, অগ্নিপথ প্রকল্পের অধীনে চার বছরের জন্য চুক্তি ভিত্তিক সেনাতে নিয়োগ করবে তারা। পরবর্তীতে 25% কর্মীদের পুনরায় নিযুক্ত করবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং বাকিদের প্রত্যেককে 11 লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। তবে বর্তমানে চার বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা সরব হয়ে উঠেছে একাধিক মহল। এক্ষেত্রে পেনশন সহ চাকরির অনিশ্চিয়তা প্রসঙ্গে মুখ খুলেছে অনেকে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্র সরকার যে যথেষ্ট চিন্তিত, তা বলাবাহুল্য।

উল্লেখ্য, শুধুমাত্র রেলপথই নয়, রাস্তাঘাটেও বিক্ষোভে নেমেছে আন্দোলনকারীরা। ইটবৃষ্টি, গাড়ি ভাঙচুর ও  পুলিশের দিকে উদ্দেশ্য করে আক্রমণের মতো বহু ঘটনা সামনে এসেছে। এমনকি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বাঁধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধতেও দেখা যায়। ফলে এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে থামে, সেদিকে তাকিয়ে সকলে।

Related Articles

Back to top button