টাইমলাইন

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইয়াস মোকাবিলায় রাজ্যকে একগুচ্ছ পরামর্শ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ একটু একটু করে সঞ্চয় করছে শক্তি। ক্রমশ বাংলার দিকে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় যশ বা ইয়াস। বিশেষজ্ঞদের মতে আপাতত আন্দামান থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে এই ঝড়। ২৬ অথবা ২৭ মে সকালেই তা আছড়ে পড়বে বাংলা সহ ওড়িশা এবং অন্ধপ্রদেশের উপকূল গুলিতে। এমতাবস্থায় ইতিমধ্যেই জরুরি বৈঠক করে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যকে কেন্দ্রের সাথে হাত মিলিয়ে একসাথে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরও। আর তারপরেই এদিন তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ইয়াস মোকাবিলা নিয়ে বৈঠক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন বাংলার জন্য ইয়াস মোকাবিলায় আগাম ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দও করা হয়। যদিও ওড়িশা এবং অন্ধের বরাদ্দ ৬০০ কোটি।

যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এরই সাথে সাথে বৈঠকে বাংলার জন্য বেশ কিছু পরামর্শও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “ঝড়ের পর অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ক্ষেত্রে সরবারাহের সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষত কোভিড কথা মাথায় রেখে অক্সিজেন, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র আগে থেকেই মজুত রাখতে হবে। পরিস্থিতি যদি খুবই খারাপ হয় তাহলে ঝড় কবলিত এলাকাগুলি থেকে রোগীদের যাতে সরিয়ে আনা যায় তার ব্যবস্থা রাখতে হবে রাজ্যকে।” গোটা দেশের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বাংলা ওড়িশা এবং অন্ধপ্রদেশের অক্সিজেন প্লান্টগুলি। তাই অমিত শাহ পরামর্শ দেন, “কোনভাবেই যাতে এই প্লান্ট গুলির উৎপাদন বন্ধ না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।”

তিন রাজ্যের ক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ প্রকল্প গুলির নিরাপত্তার’ ক্ষেত্রেও জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরই সঙ্গে তিনি জানান, “ঝড় মোকাবিলার জন্য ২৪ ঘন্টার কন্ট্রোল রুম খুলেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এই কন্ট্রোল রুম থেকেই সাহায্য পাবে রাজ্য।” তিনি জানান নৌ বাহিনী এবং কোস্টগার্ডদেরও তৎপর রাখা হয়েছে। যাতে উদ্ধারকার্যে কোন বিলম্ব না হয়। সাথে সাথে এ দিন ত্রাণের ব্যাপারেও মুখ খোলেন তিনি। আমফানের সময়ে ত্রাণ চুরি করেছে রাজ্য সরকার, এমন অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধীরা। তাই এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “ত্রাণ ও উদ্ধারকার্য সহায়তার জন্য এনসিসি, সিভিল ডিফেন্সকে কাজে লাগাতে হবে।” সাথে সাথে মোবাইল এবং টিভির মাধ্যমে সর্বদা যাতে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করা হয় এবং সে বিষয়েও পরামর্শ দেন তিনি। একইসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকেও ভালোভাবে সতর্ক করার কাজে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Related Articles

Back to top button