টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

১৭ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট নস্যি! অনুব্রত মণ্ডলের জমিজমা দেখলে মাথা ঘুরে যাবে

বাংলা হান্ট ডেস্ক: শাসক দলের নেতারা একে একে ধরা পড়ছে সিবিআই অথবা ইডির জালে । তাও একেবারে তথ্য প্রমাণ সহ। পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে কোটি কোটি টাকা কিছুদিন আগেই বাজেয়াপ্ত করে ই ডি। আর পার্থর পরেই অনুব্রত , তার ক্ষেত্রেও অন্যথা হয়নি। কোটি কোটি টাকার খেলা দেখছে রাজ্যবাসী।

সাম্প্রতিককালে অনুব্রত মণ্ডলের ১৭ কোটি ফিক্স ডিপোজিট বাজেয়াপ্ত হওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে অনুব্রতর নাম জড়িয়েছে গরু পাচার দুর্নীতির সাথে।সূত্রের খবর, গরু পাচারের সেফ প্যাসেজ পেতে এনামুল ও অনুব্রতর মধ্যে প্রতি বছর মোটা টাকার ডিল হত। কিন্তু মুনাফার এত্ত কোটি কোটি  টাকা কোথায় যেত?

এই প্রশ্নের খোঁজে সিবিআই গোয়েন্দারা।
জানেন কি “জমি”দার অনুব্রতর জমির সম্পত্তি ঠিক কতখানি?

আসুন তবে জেনে নিই এক নজরে।

২০১৬ সালে , বীরভূমের বোলপুরের কালিকাপুর মৌজায় সাড়ে ৮ শতক জমি কিনেছেন অনুব্রত। ডিড নম্বর ০৩০৩০৪৫৮২/২০১৬। ২০১৭ সালে বীরভূমেরই শান্তিনিকেতন শ্রীনিকেতন উন্নয়ন পরিষদ এলাকায় জমি হস্তান্তর হয় অনুব্রতর হাতে। অনুব্রতকে ৩ একর জমি দান করেন শিবানী ঘোষ। ডিড নম্বর ০৩০৩০৮৮৮৮/২০১৭। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ  শিবানী ঘোষ কেনই বা জমি দান করতে গেলেন অনুব্রতকে? সেখানেও ধোঁয়াশা স্পষ্ট। সেই উত্তর মেলেনি এখনও। একমাত্র কেষ্ট দিতে পারে এর সঠিক জবাব। ২০১৯ সাল- এবার অবশ্য জমি কেনেন নি অনুব্রত। এক্কেবারে ক্রেতা থেকে বিক্রেতার ভূমিকায় পদার্পণ করেছিলেন তিনি । গয়েশপুর মৌজায় শান্তিনিকেতন শ্রীনিকেতন এলাকায় , ১০ শতক জমি বিক্রি করেন অনুব্রত। ডিড নম্বর ০৩০৩০৯২৯৯/২০১৯

গোয়েন্দারা মনে করছেন এখনো অব্দি যেটুকু সম্পত্তি উদ্ধার হয়েছে সেটুকু আসলে কিছুই না এর পিছনে পাওয়া যেতে পারে আরও অনেক সম্পত্তির খোঁজ। এটা শুধু হিমশৈলের চুড়া মাত্র। এখনো অনেক বাকি।

২০২১ সালের নভেম্বর মাসে বীরভূমেরই বোলপুর মৌজায় ৬ শতক জমি কেনেন অনুব্রত। ডিড নম্বর ০৩০৩০৯৬৪২/২০২১। ওই বছরেই বোলপুরের শান্তিনিকেতন-শ্রীনিকেতনের গয়েশপুর মৌজায় জমি বিক্রি করেন অনুব্রত। ১০ প্লটে ৩৩ শতক জমি বিক্রি করেন তিনি। গ্রেফতার হওয়ার মাত্র  তিন মাস আগে অবধিও জমি কেনাবেচা চালিয়ে গিয়েছেন অনুব্রত। ২০২২ সাল অর্থাৎ চলতি বছরেই কালিকাপুর মৌজায় ১৭.৭২ শতক জমি কেনেন অনুব্রত। মে মাসে আবার গয়েশপুর মৌজায় ৮ শতক জমি বিক্রি করে দেন তিনি । এখনো অব্ধি ,  গয়েশপুরের ৩ একর জমি ৫২.২৪৫ শতক, বোলপুরে ৬ শতক, কালিকাপুরে ৮.৭৬৬৬ শতক জমি রয়েছে অনুব্রতর।

Anubrata Mandal

কিন্তু এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠে আসছে একের পর এক।অনুব্রত মণ্ডল এর এত জমি কেনার টাকার উৎস কী? তাহলে কি কালো টাকা সাদা করতেই এত জমি কেনাবেচা? নথি বলছে, বীরভূমের শান্তিনিকেতন শ্রীনিকেতন এলাকায় সবচেয়ে বেশি জমি বিক্রি করেছেন তিনি। তাহলে এত জমি কিনল  কে বা কারা? কেনই বা অনুব্রত মণ্ডলকে জমি দান করলেন শিবানী ঘোষ? অনুব্রত মণ্ডলের উত্তরের অপেক্ষায় তদন্তকারী গোয়েন্দারা।

Related Articles