টাইমলাইনখেলাক্রিকেট

আটলান্টিকে বাঁচা মরার লড়াই, বমি করতে করতেই অসুস্থ বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা

বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্ক: টেস্ট সিরিজের জঘন্যভাবে হারের মুখ দেখতে হয়েছিল। সেইসঙ্গে গড়েছিলেন লজ্জার রেকর্ড। দ্রুততম দেশ হিসেবে ১০০ টি টেস্ট ম্যাচ হারার লজ্জাজনক রেকর্ড ছড়িয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ টেস্ট টিমের নামের সাথে। সময়টা যে ভালো যাচ্ছিল না তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু কপালে যে আরও মারাত্মক দুর্ভোগ লেখা ছিল তা হয়তো কেউই জানতেন না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে অসুস্থ হয়ে পড়লেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার জন্য বৃহস্পতিবার কাকভোরে সেন্ট লুসিয়া থেকে ডোমিনিকা রওনা হয়েছিলেন সাকিব আল হাসানরা। কিন্তু যখন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বিসিবির কর্তারা আলোচনা করেছিলেন এই যাত্রার ব্যাপার নিয়ে তখন কোনো রকম খতিয়ে না দেখেই তারা ক্রিকেটারদের সমুদ্রপথে ডোমিনিকা নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজি হয়ে যান। কোন ধারনায় ছিলনা যে এই অঞ্চলে আটলান্টিকের রূপ কি রকম? ফলে এ সমুদ্রযাত্রা করার সময় সি সিকনেসের শিকার হন বাংলাদেশের একাধিক ক্রিকেটার।

সেন্ট লুসিয়া থেকে ডোমিনিকান দূরত্ব আটলান্টিকের সমুদ্রপথে অতিক্রম করতে সময় লাগে ৫ ঘন্টা। শুরুটা কিন্তু মন্দ হয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের। সমুদ্রের তাজা হাওয়ায় মন প্রাণ ফুরফুরে হয়ে উঠেছিল। সেলফি তোলা ভিডিও করায় মত্ত ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। কিন্তু মাঝ দরিয়ায় বোট পৌঁছতেই বড় বড় ঢেউ উঠতে শুরু করে। একেকটি ঢেউয়ের উচ্চতা প্রায় ৬-৭ ফুট।ভয়ে জাহাজের দিক থেকে ভেতরে চলে আসেন অনেকেই আর সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থও বোধ করতে শুরু করেন।

বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম থেকে শুরু করে উইকেট-রক্ষক নুরুল হাসান এবং দলের ম্যানেজার নাসির ইকবাল অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বমি করতে শুরু করেন। মাঝে একটি দ্বীপে বিরতির জন্য জাহাজটি দাঁড়ালে সেখানে নেমে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ম্যানেজারকে বলেন সেখান থেকে ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে। কিন্তু উপায়ন্তর না দেখেশেষ পর্যন্ত বাকি প্রথম বোটেই যাত্রা করতে হয় তাদের। একমাত্র সুস্থ ছিলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ তারকা সাকিব আল হাসান। গোটা রাস্তায় তিনি একমাত্র ক্রিকেটার বিন্দুমাত্র কোন অসুবিধা হয়নি, অথবা হলেও সকলকে বুঝতে দেননি। এইরকম সিদ্ধান্তের জন্য চরম ক্ষুব্ধ ক্রিকেটাররা তারা দোষ দিচ্ছেন বিসিবি কর্তাদের।

Related Articles