টাইমলাইনবিজ্ঞানভারত

২-১৮ বছর বয়সীদের জন্য কোভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরুর ছাড়পত্র পেল ভারত বায়োটেক

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সারা ভারত জুড়ে এই মুহূর্তে তাই মহামারীতে পরিণত হয়েছে কোভিড-১৯। প্রথম ঢেউ কোনভাবে সামাল দিলেও দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে বর্তমানে নাজেহাল অবস্থা প্রশাসন তথা চিকিৎসক মহলের। এর অন্যতম কারণ সারা দেশের মানুষ এখনো পাননি ভ্যাকসিন। তাই এই রোগ হয়ে উঠছে আরও অনেক বেশি প্রাণঘাতী। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মারণ রোগের ক্ষতিকর প্রভাব কম করতে ভ্যাকসিনের কোনো বিকল্প নেই। শুধু তাই নয়, গবেষণা বলছে ভাইরাসের প্রায় ৮০% মারন প্রভাব কাটিয়ে দিতে পারে অ্যাস্ট্রোজেনেকার মত ভ্যাকসিনগুলি। একদিকে যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঠেলায় রীতিমতো পর্যুদস্ত মানুষ, তখনই শোনা যাচ্ছে আসতে পারে তৃতীয় ঢেউও। শুধু তাই নয়, তৃতীয় ঢেউ অনেক বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে বাচ্চাদের জন্য, এমনটাই মনে করছেন গবেষকরা।

এমতাবস্থায়, দেশকে বেশ কিছুটা স্বস্তির খবর দিল ভারত বায়োটেক। কোভ্যাকসিন আবিস্কার করে ইতিমধ্যেই করোনা যুদ্ধে বড়োসড়ো যোগদান রেখেছে তারা। এবার আরও একধাপ এগিয়ে ২-১৮ বছর বয়সীদের উপরেও ক্লিনিকাল ট্রায়াল চালানোর অনুমতি পেল তারা। মঙ্গলবার তাদের এই অনুমতি দান করেন কেন্দ্রীয় ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের বিশেষজ্ঞ কমিটি। ইতিমধ্যেই ফাইজারকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ১২-১৫ বছরের কিশোর-কিশোরীদের ওপর পরীক্ষা করার অনুমতি দিয়েছে আমেরিকার বাইডেন সরকার। এবার সেই পথে হাঁটল ভারতও।এই ট্রায়াল সফল হলে ভ্যাকসিন পাবে অপ্রাপ্তবয়স্করাও। করোনা তৃতীয় ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে যা বহুমূল্য যোগদান রাখতে পারবে বলেই আশা বিজ্ঞানীদের।

দিল্লি ও পাটনা এইমস এবং নাগপুরের মেডিট্রিনা ইনস্টিটিউটে কমপক্ষে ৫২৫ জনের ওপর এই ট্রায়াল চালাবেন ভারত বায়োটেকের বিজ্ঞানীরা। দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের শেষ হলে তবেই শুরু হবে তৃতীয় পর্যায়তবে এর জন্য ডিএসএমবি অনুমোদিত ফেজ-২ পরীক্ষার সমস্ত নিয়ম নীতি ও সুরক্ষা বিধি নিশ্চিত করতে হবে ভারত বায়োটেককে। তবে মিলবে তৃতীয় পর্যায়ের গবেষণার সুযোগ। খবর অনুযায়ী, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের কাছে ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু করার জন্য আবেদন করেছিল এই সংস্থা। আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত নথিপত্র জমা দিতে অনুরোধ করে সিডিএসসিও। আর তারপরেই মঙ্গলবার মিলল অনুমতি। এই ভ্যাকসিন তৈরীর কাজ সফল হলে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে আগামী দিনের লড়াই অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে ফিরতেও অনেকটাই সুবিধা হবে তাদের।

Related Articles

Back to top button