টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

‘জনপ্রতিনিধিদের কোনও দল হয় না”, দাবি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়া বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসের

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তিনি তৃণমূল নাকি বিজেপি? বিগত বেশ কয়েক মাস ধরে এ জল্পনা ক্রমশ উঠে চলেছে বঙ্গ রাজনীতিতে। একদিকে বাগদার (Bagda) বিজেপি (BJP) বিধায়ক, আবার সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) তরফ থেকে তাঁকে সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। এরপর থেকেই একের পর এক প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করা হয়ে চলেছে। আর এবার নিজের দলীয় অবস্থান প্রসঙ্গে খোলসা করলে বিশ্বজিৎ দাস (Biswajit Das)।নিজেকে ‘তৃণমূল দলের লোক’ বলার পাশাপাশি তাঁর সুস্পষ্ট জবাব, “জনপ্রতিনিধিদের কোনও দল হয় না।”

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক কেরিয়ারের শুরুটা কংগ্রেসের হয়ে হলেও পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হন বিশ্বজিৎ দাস। এরপর ২০১১ এবং ২০১৬ সালে ঘাসফুল শিবিরের হয়ে বিধানসভা কেন্দ্রে জয়লাভ করলেও পরবর্তীতে মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে অন্তর্ভুক্তি ঘটে তাঁর। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জয়লাভ করেন বিশ্বজিৎবাবু। তবে এরপরে আরো একবার শাসক দলেই প্রত্যাবর্তন ঘটে তাঁর। তবে এখনো পর্যন্ত বিজেপির বিধায়ক পদ ছাড়েননি তিনি, যা নিয়ে বেশ কয়েকবার বিশ্বজিৎ-র উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন পূর্বেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘রানি রাসমণি’-র সঙ্গে তুলনা করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন এই বিজেপি বিধায়ক আর তার কয়েকদিন কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস দলের তরফ থেকে বিশ্বজিৎবাবুকে বনগাঁর সাংগাঠনিক জেলা সভাপতি পদে নিযুক্ত করা হলে সেই বিতর্ক আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। একজন বিজেপি বিধায়ককে কিভাবে অপর একটি দল তাদের জেলা সভাপতি করতে পারে, সেই নিয়ে একের পর এক প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হতে থাকেন তিনি।

এদিন সে সকল প্রশ্নের জবাবে অবশেষে বিজেপি বিধায়ক জানান, “জনপ্রতিনিধিদের কোন দল হয় না। সেই সার্টিফিকেটে কখনোই বাম, তৃণমূল কিংবা বিজেপি লেখা থাকে না। সকল দলের মুখ্যমন্ত্রীর নাম যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আবার প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র মোদী। জনপ্রতিনিধিরা হয় সকলের।” এরপরই তিনি বলেন, “আমি তৃণমূলের, সেই কারণে তাদের সভাপতি হয়েছি।”

বর্তমানে বিশ্বজিৎ দাসকে লক্ষ্য করে একের পর এক কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে বিজেপি এবং সিপিএম দলগুলি। এদিন সিপিএম প্রসঙ্গে তিনি জানান, “৩৪ বছর ধরে বাংলায় রাজত্ব করেছে বামেরা। তবে এই মুহূর্তে তাদেরকে দূরবীন দিয়ে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। তাই তারা কে কি বলছে, তার উত্তর আমি দেব না।”

Related Articles