টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

আমাকে শোভনের সঙ্গে সম্পর্কটা ভেঙে দিতে বলেছিল! গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বৈশাখী

বাংলাহান্ট ডেস্ক : কয়েকদিন আগেই নবান্নের ১৪ তলায় হাজির হয়েছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায় (Sovan Chatterjee)। সঙ্গে অবশ্যই ছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় (Baisakhi Banerjee)। বেরিয়েই বৈশাখী স্পষ্ট বলে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনাই হয়েছে। আর গতকাল সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় বিজেপিকে যেভাবে আক্রমন করলেন শোভন-বৈশাখী যুগল, তাতে তাঁদের সবুজ শিবিরে আসার রাস্তাটা পরিষ্কার হয়ে গেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।

গতকালের সাক্ষাৎকারে কী বললেন তাঁরা দুজন?

সাংবাদিকের প্রশ্নে বৈশাখী জানান, মহিলাদের সম্পর্কে ‘চটুল কথা’ বলাটা বিজেপির সংস্কৃতিতেই রয়েছে। শুধু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যপারেই নয় তাঁর সম্পর্কেও বিজেপি নেতারা অপমানজনক মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এই সাক্ষাৎকারে তিনি বীরভূমে রাজনৈতিক প্রচারে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেন সেখানকার প্রত্যন্ত গ্রামের মহিলারা তাঁকে সমর্থন করেন। বৈশাখীর বিরুদ্ধে যারা কথা বলবেন তাদের মুখ ভেঙে দেবে বলে হুমকি দেন প্রত্যন্ত গ্রামের মহিলারা। এমনই দাবি গতকাল করলেন বৈশাখী। ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘বিজেপি নেতারা আমাকে বলেছে তোমাকে আমরা সেতু হিসাবে ব্যবহার করেছে শোভন চট্টোপাধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছনোর জন্য।’

এর পরেই মুখ খোলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘ব্রিজ হচ্ছে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছু লোক আছে মই দিয়ে ওপরে ওঠে, আর তার পরেই মইটাকে ফেলে দেয়। বৈশাখীর সঙ্গে যে ব্যবহার বিজেপি করেছে তাতে ওর চোখে জল এসে যায়। বৈশাখীর সম্পর্কে যে কথা বিজেপি বলেছে তারপর আর ওদের সঙ্গে থাকা সম্ভব নয়। আমি একথা স্পষ্ট ভাবেই জানিয়ে দিয়েছি।’

এর পরেই বৈশাখী বলতে শুরু করেন, ‘এই বাড়িতেই বিজেপির এক নেতা এসেছিলেন। রাত ৮টা থেকে ভোর ৪টে পর্যন্ত তিনি বকবক করে যান। তিনি হঠাৎ আমাকে বলেন, এটা আপনার আত্মত্যাগের সময়। দরকার পড়লে আপনি শোভনের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করুন। উনি এটাও বলেন শোভনকে টিকিট দিলেও আপনাকে দিতে পারব না।’

তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপির ওই নেতা তাঁদের হুমকিও দেয়। বৈশাখী বলেন ‘ওই বিজেপি নেতা আমাদের হুমকি দিয়ে বলেন, শোভন আমাদের প্রস্তাবে রাজি না হলে আপনাদের দুজনকেই জেল খাটতে হবে। এর পরেই শোভন তাঁকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলে।’ তারপরই উঠে আসে রথে চড়ার ঘটনা। বৈশাখী বলেন অমিত শাহের সঙ্গে রথে চড়ার জন্য শোভনবাবুকে ডাকা হয়, কিন্তু ব্রাত্য থাকেন তিনি। এটা দেখেই নাকি শোভন চট্টোপাধ্যায় রথে চড়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। শোভন এবং বৈশাখীর কালকের বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পথকে আরও সুগম করে দিলো বলেই মনে করছে ওয়াকিবলাহ মহল। আগামী ২১জুলাই তৃণমূলের শহীদ দিবসের মঞ্চেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুগলকে দেখা যেতে পারে বলেই অনুমান রাজনৈতিক মহলের।

Related Articles

Back to top button