‘বাংলা থেকে ৩৫টি আসন দিন’, সিউড়িতে দাঁড়িয়ে লোকসভার জন্য ‘শাহী’ টার্গেট বেঁধে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বঙ্গে আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট। আর অন্যদিকে বছর ঘুরলেই লোকসভা নির্বাচন। এই আবহে রাজ্যে হাজিরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। আর বাংলায় পা থেকেই বেঁধে দিলেন ‘শাহী’ টার্গেট। সিউড়ির সভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আগামী লোকসভায় ফের নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) প্রধানমন্ত্রী করতে হবে। বাংলা থেকে আমাদের ৩৫টি আসন দিন।”

প্রসঙ্গত, পূর্বেই অমিত শাহ বলেছিলেন, ২০২৪ সালেও তিনশোর বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি। আর এদিন সরাসরি বাংলা থেকে কত আসন চান তাও জানিয়ে দিলেন মোদীর মন্ত্রী। সিউড়ির সভায় দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দেশকে সুরক্ষিত এবং সমৃদ্ধ করতে হলে ফের মোদিজিকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে। বাংলা থেকে পিসি-ভাইপোর সরকারকে উৎখাত করতে হলে বিজেপিকে ৩৫টি আসন দিন।”

পদ্ম শিবিরের মন্ত্রীর বক্তব্য, “২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা থেকে ৭৭টি আসন পাইয়ে দিয়ে আপনারা আমাদের দায়িত্ব বাড়িয়ে দিয়েছেন। এবার যেটুকু কাজ বাকি আছে সেটা বাংলা থেকে ৩৫ আসন পাইয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ করুন। আমি আপনাদের কথা দিয়ে যাচ্ছি, যদি ৩৫ আসন বিজেপি পায়, তাহলে ২০২৫ সালের মধ্যে মমতার সরকার পড়ে যাবে। আমি তো বলব ২০২৫ সাল পর্যন্তও টিকবে না।”

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরে এই ‘শাহী’ টার্গেটের পরই শুরু রাজনৈতিক তরজা। এই নিয়ে প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, লোকসভায় বাংলা থেকে যদি ৩৫ আসন বিজেপি পায়, তাহলে ২০২৬ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। তার অনেক আগেই মমতার সরকার পড়ে যাবে।” অন্যদিকে, পাল্টা গেরুয়া শিবিরকে একহাত নিয়েছে শাসকদল।

amit shah

এই নিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন,”২০২১ সালেও বাংলা থেকে উনি ২০০ আসন পাওয়ার দাবি করেছিলেন, তারপর কী হয়েছে সবাই জানে। ৩৫ কেন শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। ১টা আসন পেতে এবার মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হবে।” এরপরেই প্রশ্ন ছুঁড়ে কুণাল বলেন, “উনি বলছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে সরকার পড়ে যাবে, তাহলে কি সরকারের বিরুদ্ধে কোনও ষড়যন্ত্র হচ্ছে?”

প্রসঙ্গত, শাহর এই আশা বঙ্গ বিজেপি কতটা মেটাতে পারবে তা বোঝা যাবে সময় এলেই। তবে রাজনৈতিক মহলের মত, শাহের এই টার্গেট পূরণ করা বিজেপির পক্ষে অসাধ্য সাধন। কারণ বর্তমানে বিজেপির লোকসভা সাংসদ সংখ্যা ১৬। সেখান থেকে এক লাফে ৩৫ যেতে গেরুয়া শিবিরকে বেশ বেগ পেতে হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ভোটের আগে শাহ বাংলার মাটিতে পা দিলেই রাজনৈতিক উত্তাপ যেন আরও বেশি চড়ে। তার সফর থেকে নিয়ে খাওয়া-দাওয়া সব কিছুই থাকে খবরের শিরোনামে। উনিশের লোকসভা ভোটের আগে থেকে প্রায় টানা দু’বছর শাহ বাংলায় এলেই কোনও দলিত বা অনগ্রসর পরিবারের বসে বাঙালি আদব-কায়দায় ভোজন সারতেন। তেমনটাই যেন রীতিমতো হয়ে গিয়েছিল। যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শাসকদল। তবে এবার ব্যতিক্রম দেখা গেল বীরভূমে। প্রচন্ড গরমে অমিত শাহর দুপুরের ভোজন কোনও গরিব পরিবারের দাওয়ায় বসে নয়, খাবার খেলেন সিউড়ির সার্কিট হাউজে। অবশ্য তা নিয়েও তৃণমূলের কথার শেষ নেই।