টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

ডিএ নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের আশায় একপ্রকার জল ঢাললেন মুখ্যমন্ত্রী! ঘুরিয়ে তোপ কেন্দ্রকে

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে সকল সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য কিছুদিন পূর্বেই নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে এদিন পেট্রোল ও ডিজেলের ভ্যাট কমালেও ডিএ সংক্রান্ত কোনো রকম ঘোষণা করলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে এবারেও একপ্রকার হতাশাই জুটলো সরকারি কর্মচারীদের ভাগ্যে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই মামলাটি বর্তমানে আদালতে চলছে। আমি এই সম্পর্কে কোনো রকম মন্তব্য করব না।”

এরপর কেন্দ্র সরকারকে খোঁচা মেরে তিনি বলেন, “100 দিনের কাজের টাকা ওরা ঠিকমত দেয় না। ওদের সবকিছুতেই ষড়যন্ত্র। দাম কমায় না, বরং কর কমিয়ে সুনাম অর্জন করে। বর্তমানে সেসের পুরো আয় কেন্দ্র সরকারের ঘরে চলে যাচ্ছে আর রাজ্যের ভাড়ার শুন্য থাকছে।”

সম্প্রতি, হাইকোর্টের নির্দেশের পর মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের  সাংবাদিক সম্মেলনে নজর ছিল অনেক সরকারি কর্মচারীদের। অনেকেই ভেবেছিলেন যে, হয়তো এদিন ডিএ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাদের সেই আশায় জল ঢেলে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “চলতি বছরে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার জন্য যে টাকার দরকার পড়ে, সেটাই আমাদের হাতে নেই। বর্তমানে কেন্দ্রের একাধিক পদক্ষেপের জন্য রাজ্যের রাজস্ব দিন দিন কমে যাচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট সরকারি কর্মচারীদের ডিএ মেটানোর নির্দেশ দেয় রাজ্যকে। তবে আগামী তিন মাসের মধ্যে সেই বিশাল পরিমাণ অর্থ কিভাবে মেটানো যাবে, সেটাই এখনো ভেবে উঠতে পারেনি রাজ্য। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিএ মেটানোর জন্য এই মুহূর্তে রাজ্যের প্রয়োজন প্রায় 23 হাজার কোটি টাকা।

সাংবাদিক সম্মেলনে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একশো দিনের প্রকল্প এবং জ্বালানি তেলের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। কিছুদিন পূর্বেই 100 দিনের কাজের টাকা যথাযথভাবে পাওয়া যাচ্ছে না বলে মোদিকে একটি চিঠি লেখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হলেও এখনো তার জবাব পাওয়া যায়নি। টাকা না মেলায় সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।”

জ্বালানি তেলের প্রসঙ্গে এদিন কেন্দ্রকে খোঁচা মেরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখন অনেকেই বলছে যে,  বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি নাকি পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমিয়েছে, আমরা কমাইনি। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখুন, ওই রাজ্যগুলিকে কত সুবিধা দেয় কেন্দ্র আর আমাদের কোন রকম সহায়তা করছে না তারা। প্রাপ্য অর্থ পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না।”

Related Articles

Back to top button