fbpx
আন্তর্জাতিকটাইমলাইন

শিশুদের সিগারেট টানই হল রীতি, সিগারেট দিচ্ছেন তাঁদের বামা-মায়েরাই- পর্তুগালের এক গ্রামের উৎসব

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ লজেন্সের (Toffee) বদলে শিশুদের (Children) মুখে দেওয়া হচ্ছে সিগারেট (cigarette)। একদিনে দুই-তিন প্যাকেট সিগারেট তাঁরা খেয়ে নিচ্ছে। অবাক করা বিষয় হল, শিশুদের এই সিগারেট কিনে দিচ্ছেন তাঁদের নিজেদেরই বাব-মা। পর্তুগালের (Portugal) ‘ভ্যালি সালগুইয়েরো’ গ্রামে বহু বছর ধরেই চলে আসছে এই রীতি।


ধূমপান (Smoking) যে স্বাস্থের পক্ষে কতটা ক্ষতিকারক তা জানা সত্ত্বেও একটি বিশেষ দিনে ওই গ্রামের বাচ্চাদেরে হাতে সিগারেট তুলে দেয় তাঁদের বাব-মায়েরাই। ‘এপিফ্যানি’ নামের এই উৎসবের (festival) বিশেষত্বই হল শিশুদের ধূমপান। এপিফ্যানি হল খ্রিষ্টানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, যাকে কেউ কেউ দ্বিতীয় বড়দিন বলে মনে করেন। তাঁদের দাবী এইদিন প্রভু যিশু ধরাধামে ঈশ্বরের ছেলে এবং একজন অলৌকিক পথপ্রদর্শক হিসেবে নিজের পরিচয় নিয়ে জনসম্মুখে আসেন। সমগ্র পোর্তুগাল জুড়ে এই দিনটি উপহার বিনিময় আর সাঁতার কিংবা গানবাজনার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। কিন্তু শুধুমাত্র এই গ্রামে এই দিনটি অন্যরকমভাবে পালন করা হয়। কিন্তু কেন এই অদ্ভুত ধরনের নিয়ম পালন করা হয়, তাঁর সঠিক কারণ কেউই বলতে নারাজ।

‘ভ্যালি সালগুইয়েরো’ গ্রামের খ্রিষ্টান পুরোহিতদের প্রধান কার্লোস কাদওয়েজ এই রীতি পালনের প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখানে শুধুমাত্র যারা বসবাস করে এবং থাকেন, তারাই প্রকৃতপক্ষে এই ঐতিহ্যের মহত্ত্ব বুঝতে সক্ষম। আমার দশ বছরের মেয়ে লুসিয়াও এইদিনে আমার সামনে বসে দুই-তিন প্যাকেট সিগারেট খেয়ে এই উৎসব পালন করে। এই দিনটির প্রসঙ্গে আমি আর কাউকে কিছু বোঝাতে চাই না। আসল কথা হল বোঝানোর চেষ্টাই বৃথা। অনেকেই ভাবেন যে আমরা বাবা-মা হিসেবে খারাপ, এমনকি মানুষ হিসেবেও ভালো না।’


প্রথাগতভাবে জানুয়ারির প্রথম শনিবার তাঁরা তাঁদের শিশুদেরকে সিগারেট খেতে দেন। শিশুরা এই সিগারেট তাঁদের বাবা মায়েদের সামনেই খেয়ে তাঁকে। এতে গ্রামের কেউই কিছু মনে করেন না। গ্রামের একজন দোকানদার গিলহারমিনা মাটিস বলেন, ‘এই দিনে আমি আমার ছেলেমেয়েদের সিগারেট খেতে দি। আমি এটার কারণ ব্যাখ্যা করতে চাই না। তাছাড়া আমি তো এতে কোন ক্ষতি দেখছি না। ওরা কেবল এই দিনটিতে সিগারেটে টান দিয়ে দ্রুত দ্রুত ধোঁয়া ছেড়ে দেয়। আর কোনোদিন সিগারেট চায় না। যেহেতু এটা এক দিনের ব্যাপার, তাই এর থেকে খারাপ কিছু হবে না।’

হোসে রিবেরিনহা নামে এক লেখক বলেন, সুদূর অতীতে মূল লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে তাঁরা হয়ত এই রীতির প্রচলন করেন। তবে এর পেছনের সঠিক কারণ এখন জানা যায়নি। ইউরোপে বহু মানুষ ধূমপানের ফলে ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। তা সত্ত্বেও কিভাবে ওই গ্রামে এমন কাজ চলছে সেটা খতিয়ে দেখছে শিশুদের অধিকার নিয়ে কর্মরত সংস্থার কর্তারা।

Back to top button
Close
Close