টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

স্বাধীনতা দিবসে ধর্মীয় স্লোগান! ১৪ জনকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালেন TMC উপপ্রধান মন্টু ইসলাম

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গতকাল গোটা দেশজুড়ে পালিত হয় ৭৬ তম স্বাধীনতা দিবস। এই দিনটিতে পারস্পরিক ভেদাভেদ এবং শত্রুতা ভুলে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই একত্রিত হন। গতকাল গোটা দেশ জুড়ে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে এর মাঝেও বাদ গেল না রাজনৈতিক বিতর্ক। গতকাল একটি রাজনৈতিক দলের স্লোগান এবং পরবর্তীতে তা বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাধে বিপত্তি। এ ঘটনায় আহত ১৪ জন যুবককে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের পরিবারের সদস্য এবং ক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

ঘটনার কেন্দ্রস্থল মালদা জেলার ইংরেজ বাজারের কাজিগ্রামের চণ্ডীপুর এলাকা। সূত্রের খবর, স্বাধীনতা দিবস উপলোকগতে ‘সিংহবাহিনী’ নামে একটি সংগঠনের বেশ কয়েকজন যুবক মিলে মিছিলের আয়োজন করে। মোটরবাইকে করে সেই মিছিলটি ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। সংগঠনের পতাকা রাখার পাশাপাশি যুবকরা ‘জয় শ্রীরাম’, ‘বিজেপি জিন্দাবাদ’ ও ‘মোদীজি জিন্দাবাদ’-র মতো স্লোগান দিতে থাকে।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে এ সকল স্লোগান দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাধা দিতে গেলে শুরু হয় ঝামেলা। এরপর ক্ষুব্ধ জনতার দল সেসকল যুবকদের মারধর করতে শুরু করে। মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত উপপ্রধান ও তাঁর লোকেদের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী এবং আহত সকল যুবককে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, এরপরই এলাকায় এসে উপস্থিত হয় আক্রান্ত যুবকদের পরিবারের সদস্য এবং আরো কিছু মানুষ। এর পরই তারা সম্পূর্ণ ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। আহত এক যুবকের মা জানান, “পাড়ার সকল ছেলেরা মিলে কাজিগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মিছিল করতে গিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় আচমকা তৃণমূলের উপপ্রধানের লোকজনরা মিলে তাদেরকে বাধা দেয় এবং পরবর্তীতে মারধর শুরু করে। ওরা এমন মেরেছে যে আমার ছেলে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।”

Beat

যদিও এ সকল অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূল পঞ্চায়েত উপপ্রধান মন্টু ইসলাম জানান, “স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে হিন্দু ও মুসলিম সকল মানুষরা মিলিত হয়। তবে এদিন কয়েকজন দুষ্কৃতী মিলে রাজনৈতিক স্লোগান দিতে শুরু করে। ‘জয় শ্রীরাম’ থেকে শুরু করে ‘বিজেপি জিন্দাবাদ’-এর মতো স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের। এরপর স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে তারা কোন কথা শোনেনি।” এক্ষেত্রে অবশ্য মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, “মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঘটনার তদন্ত করা হোক।”

Related Articles