টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

বাম আমলে খাদ্য দপ্তরে নিয়োগে দুর্নীতি, স্যাটের নির্দেশে চাকরি গেল ৬১৪ জনের

বাংলাহান্ট ডেস্ক : প্রবাদ আছে ‘যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ।’ বাংলার দশা এখন তাই। নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে আদালতে নাকানি-চুবানি খাচ্ছে পর্ষদের আইনজীবিরা। সিবিআই-ইডির দফতরে ডাক পড়ছে রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীদের। এরই মধ্যে সিপিএম আমলে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে দুর্নীতির একটি গুরুতর অভিযোগ উঠে এল। বেআইনি নিয়োগের অভিযোগে ৬১৪ জনকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিল স্যাট। বাম জামানাতেও সরকারি চাকরিতে নিয়োগে দুর্নীতি যে একেবারেই সাধারণ বিষয় ছিল তা এই ঘটনাই বুঝিয়ে দিচ্ছে।

রাজ্যে পালা বদলের আগে সিপিএম খাদ‌্য দপ্তরে ইন্টারভিউয়ের নামে একপ্রকার প্রহসন রচনা করে। এই প্রহসনের নামেই ‘গ্রুপ ডি’ পদে ৬১৪ জনকে নিয়োগ করা হয়। সেই সময় এই নিয়োগের বিরুদ্ধে একটি মামলাও হাই কোর্টে। কোর্ট জানায়, এই নিয়োগে চূড়ান্ত বেনিয়ম হয়েছে। হাই কোর্টের ওই পর্যবেক্ষণকে ভিত্তি করেই স্টেট অ‌্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল রায় দেয় ২০১০ সালে বেআইনি ভাবে ৬১৪ জনকে নিয়োগ করা হয়। এদের প্রত্যককেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে। শুধু তাই নয়, বরখাস্ত করার জন‌্য ৮ সপ্তাহের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে স‌্যাট। এমনকি যে সিলেকশন বোর্ড এই ৬১৪ জনকে নিয়োগ করে তার সদস‌্যদের বিরুদ্ধেও পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে নির্দেশ দিয়েছে স‌্যাট।

জানা যাচ্ছে, ২০০৮ সালে ‘গ্রুপ ডি’ পদে নিয়োগের জন‌্য খাদ‌্য দপ্তর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। প্রায় লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়ে। ইন্টারভিউ নিয়ে ২০১০ সালে মোট ৬১৪ জনকে নিয়োগ করা হয়। এই নিয়োগের বিরুদ্ধে ২০১২ সালেই স‌্যাটে একটি মামলা হয়। স‌্যাট মামলাটিকে কলকাতা উচ্চআদালতে পাঠায়। চার বছর পর ২০১৬ সালে হাই কোর্টের তৎকালীন বিচারপতি নিশীথা মাত্রের বেঞ্চ জানায়, একদিনের মধ্যে ৮০০ জনের ইন্টারভিউ নিয়ে নিয়োগ করা একটা প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়। এটা সম্পুর্ণ বেআইনি।

হাই কোর্ট মামলাটিকে আবারও পাঠায় স‌্যাটে। স‌্যাটও হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেই রায় দিয়েছে। স‌্যাটে সরকার পক্ষের আইনজীবী গৌতম পাঠক বন্দ্যোপাধ‌্যায় বলেন, ‘রায়ের একটি প্রতিলিপি খাদ‌্য দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সরকার এই বিষয়টি বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’

Related Articles

Back to top button