টাইমলাইনরাজনীতি

’শেষ দেখে ছাড়ব’ বিজেপি নেতার মৃত্যুতে প্রশাসনকে দিলীপ ঘোষের কড়া হুমকি

বাংলহান্ট ডেস্কঃ উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের (Hematabad) বিজেপি বিধায়কের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে সোমবার সকাল থেকে আন্দোলিত হয়ে গেল রাজ্য রাজনীতি।

পুলিশ সূত্রের খবর, বাড়ি থেকে ১ কিলোমিটার দূরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের নিথর দেহকে। দেখা গিয়েছে, তাঁর গলায় দড়ি বাঁধা। সেই দড়ি হাতেও বাধা। এ ঘটনার ছবি সামনে আসতেই রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip ghosh) এদিন বলেন, “এ ভাবে কাউকে আত্মহত্যা করতে দেখেছে কেউ! খুন করা হয়েছে দেবেন্দ্রনাথ রায়কে”।

তাঁর কথায়, “ওখানকার এক তৃণমূল নেতা এই ঘটনার পিছনে রয়েছে। সে ওখানকার যুব তৃণমূল নেতা। নাম গৌতম পাল। একুশের ভোটের আগে পথের কাঁটা সরাতেই খুন করেছে দেবেন্দ্রনাথ রায়কে”।

দিলীপবাবু আরও বলেন, “রাজনৈতিক ভাবে পেরে না উঠে এবার খুনের রাজনীতি শুরু করেছে তৃণমূল। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। রাজ্য পুলিশকে দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করলে চলবে না। আমরা দাবি করছি, কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি দিয়ে তদন্ত করাতে হবে।”

রাজ্য বিজেপি সভাপতি আরও জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে ঘন্টা খানেকের মধ্যেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে নোট পাঠাবেন তিনি।

হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়কের মৃত্যুকে খুন বলে দাবি করে সরব হলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডাও। তিনি টুইট করে এই ঘটনার নিন্দা করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে গুন্ডারাজ চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চূড়ান্ত ব্যর্থতা প্রামাণ করল এই ঘটনা।

মানুষ এটাকে ক্ষমা করবে না। ইতিমধ্যে বিজেপির রাজ্য যুব সভাপতি তথা বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খান হেমতাবাদের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। হেমতাবাদে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রায়গঞ্জের সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীও।

লোকসভা ভোটের আগে পুরুলিয়ায় দুই বিজেপির কর্মীর রহস্যমৃত্যু ঘটেছিল। তাঁদেরও ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনাকেও রাজনৈতিক খুন বলে অভিযোগ করেছিল বিজেপি।

দিনাজপুরের বিজেপি বিধায়কের এই রহস্য মৃত্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও কোনও মন্তব্য করেননি। কোনও টুইটও করেননি তিনি। তবে ঘরোয়া আলোচনায় তৃণমূল নেতারা বলেন, ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত হওয়ার আগেই দিলীপবাবু যে ভাবে খুনের অভিযোগ করলেন এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে আঙুল তুললেন তা দায়িত্বশীল রাজনীতি নয়। বিধায়কের মৃত্যুর ঘটনা মর্মান্তিক। রাজ্য পুলিশ নিশ্চয়ই সবরকম তদন্ত করবে।

Back to top button