টাইমলাইনভারত

সেই IPS যিনি নিজেই ছিলেন সাত বছর জেল বন্দি, এখন ঘুষখোর অফিসারদের পাঠাচ্ছেন শ্রীঘরে

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সিংহম কিম্বা দাবাং-এর চুলবুল পান্ডের হয়তো দেখা যায় সিনেমার পর্দায়। কিন্তু বাস্তব জীবন তো সিনেমার পর্দায় নয়। তাই সিংহমদের দেখা মিলবে কোথায়। কিন্তু এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যারা আসলে রিয়েল লাইফ হিরো। এমনই এক আইপিএস পুলিশ অফিসারের কথা আজ আপনাদের জানাবো। যার ভয়ে রীতিমতো থরহরি কম্পমান সমস্ত অসৎ আধিকারিকরা। আইপিএস, আইএস হোক বা অন্য কোনো বড় পদের অফিসার। অসৎ কাজ করলে কাউকেই রেহাই দেন না তিনি। রাজস্থানের এই আইপিএস অফিসারের নাম দীনেশ এম এন।(Dinesh M N)

কর্নাটকের বাসিন্দা দীনেশ ১৯৯৫ সালের আইপিএস ক্যাডার। ১৯৯৯ সালে প্রথমবার রাজস্থান পুলিশের এসপি পদে দাউসায় যোগদান করেন তিনি। শুরু থেকেই নিজের প্রতিবাদী মানসিকতার পরিচয় দেন দীনেশ। নিজের কেরিয়ারের শুরু থেকেই একাধিক ঘুষ সংক্রান্ত মামলার পর্দা ফাঁস করেছেন তিনি। যার মধ্যে অন্যতম একটি বড় মামলা হল পুলিশ সুপার মনীশ আগরওয়ালের কেসটি। একটি নির্মাণ সংস্থার থেকে প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা ঘুষের দায়ে দীনেশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। দীনেশ যখন তাকে গ্রেফতার করেন তখনো চার লক্ষ টাকার মাসিক বন্ড ছিলেন ওই অফিসার।

আইপিএস, আইএএস, এসটিপি কেউই রেহাই পাননি তার হাত থেকে। কোথাও কোনো রকম অসৎ কাজ দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তিনি। কিন্তু এই সৎ অফিসারকেই সাত বছর জেলে কাটাতে হয়েছিল একটি এনকাউন্টার মামলার কারণে। ২০০৫ সালে রাজস্থান এবং গুজরাট পুলিশের যৌথ অভিযানে এনকাউন্টার করা হয় কুখ্যাত গ্যাংস্টার সোহরাবউদ্দিন শেখের। সেই মামলাতেই গ্রেফতার হন দীনেশও। যদিও সাত বছর বাদে ২০১৪ সালে জেল থেকে বেকসুর খালাস পান তিনি। তার জন্য জনতা ফুল বিছিয়ে দিয়েছিল রাস্তায়।

ফিরেই আবার একই রকম ভাবে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন এই রিয়েল লাইফ সিংহম। ২০১৪ সালে কারামুক্তির কিছুদিন পরেই রাজস্থান পুলিশের এসিবিতে আইজি পদে উন্নীত করা হয় তাকে। আর তারপর থেকেই ফের একবার শুরু হয় ধামাকা। খনন বিভাগের সেক্রেটারি আইএএস অফিসার অশোক সিংহভিকে আড়াই কোটি টাকা ঘুষের মামলায় গ্রেপ্তার করেন তিনি। ২০১৭ সালে ওসিজিতে আইজি পদে থাকাকালীন কুখ্যাত গ্যাংস্টার আনন্দপাল সিংহের এনকাউন্টার অভিযানে নেতৃত্ব দেন তিনি। এই মামলায় দীনেশ যে কাজ করেছিলেন তা কার্যত ৫ রাজ্যের পুলিশ একসাথে মিলেও করতে পারেনি। সফলভাবে একের পর এক ঘটনায় যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি, অনেক মানুষের কাছেই তাকে আদর্শ করে তুলেছে।

আপাতত রাজস্থানের এসিবিতে এডিজির দায়িত্ব পালন করছেন দীনেশ এমএন। গত দুবছরেই আইপিএস, আইএস অফিসার দের প্রায় আটটি ঘুষ সংক্রান্ত মামলার পর্দা ফাঁস করেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, “এমনিতে এসিবি সারাবছরই কাজ করে। কিন্তু এখন মহানির্দেশক বিএল সোনির আমলে কাজের গতি আরও বেড়েছে। আমাদের দল প্রত্যেকটি অভিযোগকে গুরুত্বের সাথে বিচার করে। কেউ যদি এসিবির হেল্পলাইন নম্বর ১০৬৪ তে কল করেন কিম্বা ৯৪১৩৫০২৮৩৪ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করেন তাতেই সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।”

Related Articles

Back to top button