টাইমলাইনবিজ্ঞানভারত

‘আমরা করব জয়” করোনাকে হারাতে এল ২-ডিজি, DRDO-র তিন ডাক্তার আনল ‘রামবাণ” চিকিৎসা

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ এই মুহূর্তে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সুনামিতে নাজেহাল দেশগুলির মধ্যে অন্যতম হলো ভারত। রোজই কয়েক লক্ষ মানুষ নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছেন, চলেছে মৃত্যুমিছিলও। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে বাইরে থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ভারতের বন্ধু দেশগুলিও। এমতাবস্থায় দেশকে বেশ কিছুটা স্বস্তি দিল ২-ডিজি নমক করোনা মুক্তির ওষুধ। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য শুরুর দিন থেকেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে আসছিলেন দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানীরা। তাদের হাত ধরেই রেমডেসিভির, ফ্যাবি ফ্লুর মত একাধিক ওষুধ পেয়েছে সারা বিশ্ব। করোনা প্রতিরোধে যা প্রতিমুহূর্তে হয়ে উঠছে জীবনদায়ী। কিন্তু তাও রোজই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছেন হাজার হাজার মানুষ। সংকট তৈরি হয়েছে প্রাণবায়ু অক্সিজেনকে কেন্দ্র করেও। এরই মাঝে করোনা মুক্তির ওষুধ হিসেবে ২-ডিজি আবিষ্কার করে দেশকে বেশ কিছুটা আশার আলো দেখালেন সুধীর চান্দনা ও তার টিম।

হিসারের অধিবাসী সুধীর ডি আর ডি ও এর প্রধান বৈজ্ঞানিকদের অন্যতম। ২-ডিজি ওষুধ আবিষ্কারের পিছনে যে তিনজন চিকিৎসকের ভূমিকা অনন্য তাদের মধ্যে অন্যতম সুধীর চান্দনা। সঙ্গে ছিলেন অনন্ত নারায়ন এবং ডাক্তার অনিল কুমার মিশ্র। ওষুধ আবিষ্কারকারী চিকিৎসকদের দাবি, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রথম ধাপ অতিক্রম করেছেন তারা। এই ওষুধ চিকিৎসা ক্ষেত্রে হয়ে উঠতে পারে রামবান। ২-ডিজি-এর পুরো নাম ২-ডিউজি-ডি-গ্লুকোজ। এই ওষুধ আবিষ্কারের মাধ্যমে দেশে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছেন এই তিন বিজ্ঞানী।

ডক্টর সুধীর চান্দনার ভাই বিনীত চান্দনা সংবাদমাধ্যমকে জানান, শনিবার দাদা সুধীর তাকে ফোনে এই খবর দেন। তিনি বলেন অবশেষে আমরা করোনাকে হারানোর ওষুধ আবিষ্কার করেছি। এই কাজে বহুবার অসফল হলেও অবশেষে এসেছে জয়। সুধীর বাবুর সাথেই এই কাজে অন্তরঙ্গভাবে জড়িয়েছিলেন অনন্ত নারায়ন এবং অনিল কুমার মিশ্র।

দেশের প্রথম কোভিড মহামারীর ওষুধ আবিষ্কারকারী দলের অন্যতম সদস্য অনন্ত নারায়ন বলেন, ওষুধের দাম অত্যন্ত কম রাখারই চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। উৎপাদনের সাথে সাথেই দাম আরো কমানো হবে। যাতে দেশের প্রত্যেক বর্গের মানুষ এই ওষুধ নিতে সমর্থ হন।

গোরখপুর নিবাসী ডাক্তার অনন্ত নারায়ন বর্তমানে ডিআরডিওর একজন অন্যতম বিশিষ্ট বিজ্ঞানী। ডক্টর নারায়ন অযোধ্যার রাম মনোহর লোহিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিজের পিএইচডি পূর্ণ করেন। অন্যদিকে বালিয়া জেলার ডক্টর অনিল কুমার মিত্র বর্তমানে সিকান্দারপুরের মিছরি চকের নিবাসী। এর আগে কোভ্যাকসিন তৈরীর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন সিকন্দরপুরেরই অধিবাসী ডক্টর সঞ্জয় রায়। এবার একই জায়গা থেকে করণা মুক্তির ওষুধ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখলেন ডক্টর অনিল কুমার মিশ্রও। ১৯৮৮ সালে বি.এইচ.ইউ থেকে নিজের পিএইচডি পূর্ণ করার পর পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে ফ্রান্সে রজার গিলার্ডের সাথে বরগোগ্নো বিশ্ববিদ্যালয়ে, প্রফেসার সিএফ মায়ার্স, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং প্রফেসর ডেভিসের সঙ্গে কাজ করেন তিন। এই তিন চিকিৎসকের আবিষ্কার এখন স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভারতকে। শেষ পর্যন্ত কবে এই ওষুধ বাজারে আসে, এই মুহূর্তে তার প্রতিক্ষাতেই রয়েছে সকলে।

Related Articles

Back to top button