টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গ

একেবারে খেয়ে নেন ২ কেজি চালের ভাত, ১ কেজি খাসি! কলিযুগের কুম্ভকর্ণের খোঁজ মিলল পশ্চিমবঙ্গেই

বাংলা হান্ট ডেস্ক: “ভোজনরসিক বাঙালি” এই কথাটি আমার সকলেই শুনেছি। এমনকি, আমাদের চেনা-পরিচিতদের মধ্যেও এমন অনেক মানুষ থাকেন যাঁরা অত্যন্ত খেতে পছন্দ করেন। আর যে কারণে তাঁদেরকে নিয়ে সবারই একটা আলাদা আগ্রহ থাকে। কিন্তু, তাই বলে ২ কেজি চালের ভাত, ১ কেজি খাসির মাংস, ৩০ পিস নান এবং ৫০ পিস রসগোল্লা কি একসাথে কেউ কখনও খেতে পারেন?

প্রথমে শুনে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঠিক এইরকম এক ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে সম্প্রতি। আর তিনি রীতিমতো মনের আনন্দে ভালোবেসেন খেতে। জানা গিয়েছে যে, বাড়িতে দুপুরবেলায় অনায়াসেই দু’কেজি চালের ভাত খেয়ে নেন বাঁকুড়ার হিরাবাঁধের পয়রাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা দুলাল মুর্মু। তবে, হোটেলে খাওয়াকালীন সকলের কথা ভেবে মাত্র ১ কেজি চালের ভাতই খান তিনি।

শুধু তাই নয়, তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি একটি বিয়ে বাড়িতে গিয়ে কার্যত রেকর্ড তৈরি করেছেন তিনি। সেখানে প্রায় ১ কেজি খাসির মাংস দিয়ে ৩০ পিস নান এবং ৫০ পিস রসগোল্লা খেয়ে ফেলেন দুলাল। যদিও কোনো কোনো জায়গায় আবার ৭০ পিস পর্যন্ত রসগোল্লা খেয়ে ফেলার নজির রয়েছে তাঁর।

এমতাবস্থায়, তাঁর এইরূপ খাবারের প্রশংসা জানিয়ে ক্ষতি হওয়া সত্বেও মাত্র ৫০ টাকার বিনিময়েই তাঁকে এক থেকে দেড় কেজি চালের ভাতের ব্যবস্থা করে দিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। মূলত, পেশাগত দিক থেকে খাতড়া মহকুমা আদালতের মোহরি দুলাল প্রতিদিনই ওই নির্দিষ্ট হোটেলে খেতে আসেন। আর সেখানেই যত্নের সাথে তাঁর খাওয়ারের ব্যবস্থা করে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

পাশাপাশি হোটেল সূত্রে জানানো হয়েছে যে, “বর্তমানে মানুষের খাবারের চাহিদা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। কিন্তু সেই আবহেই দুলাল এভাবেই নিজের খাওয়ায় চালিয়ে যাচ্ছেন। যা দেখতে আমাদেরও ভালো লাগে। সেই কারণেই আমরা তাঁকে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েও ওই নির্দিষ্ট পরিমাণ খাওয়ারের ব্যবস্থা করে দিই।”

এই প্রসঙ্গে দুলালের এক সহকর্মী জানিয়েছেন, “প্রথম থেকেই ওনাকে এইভাবে দেখে আসছি আমরা। আর ওই কারণেই ওনাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়েও যাই। সম্প্রতি একটি বিয়ে বাড়িতে গিয়ে উনি প্রায় ৩০ পিস নান, ১ কেজি খাসির মাংস এবং ৫০ পিস রসগোল্লা খেয়ে ফেলেন। যা দেখে আমরা সকলেই অবাক হয়ে যাই।”

এদিকে, একসাথে এত খাওয়ায় খেয়ে শরীরে কোন অসুবিধে হয় না? এই প্রশ্নের উত্তরে দুলাল জানান, তিনি প্রতিদিনই প্রচুর পরিশ্রম করেন। পাশাপাশি বাড়ি থেকে ১৬ কিলোমিটার সাইকেল করে তিনি আসেন কর্মক্ষেত্রে। এছাড়াও, চাষাবাদের কাজ করেন তিনি। আর সেই কারণেই তাঁর শরীরে এখনো কোনো মেদ জমেনি।

এমতাবস্থায়, দুলালের এহেন খাওয়ারের একটি ভিডিও ভাইরালও হয়েছে নেটমাধ্যমে। যা দেখে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছে সকলের। এমনকি, একজন মানুষ যে একসাথে এত পরিমান খাওয়ার খেতে পারেন, তা বিশ্বাসই করতে পারছেন না অনেকেই। স্বাভাবিকভাবেই, ওই ভিডিওটির পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন নেটাগরিকরা।

Related Articles

Back to top button