টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

পার্থর পুজোর উদ্বোধন করলেন না মুখ্যমন্ত্রী! বুকে পাথর চেপে ভিন্ন ভাবনা নাকতলা উদয়ন সংঘের

বাংলাহান্ট ডেস্ক : প্রথমবার এমন হল। কলকাতার (Kolkata) সেরা পুজো ক্লাবগুলির মধ্যে এটি একটি। তার জৌলুসও কম নয়। ফি বছর এই মণ্ডপের ফিঁতে কেটে পূজা উদ্বোধন করেন স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আর হবে হবে নাই বা কেন। ক্লাবটির নাম যে নাকতলা উদয়ন সংঘ। আর এই পূজার প্রধান উদ্যোক্তা যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এই বছর যেন হঠাৎ করেই বদলে গেছে ছবিটা। সেই আলোর রোশনাই যেন কোথায় হারিয়ে গিয়েছে। মণ্ডপ ও থিমের প্রয়োজনে লাগানো গুটি কয়েক জায়গায় হালকা আলো জ্বলছে শুধু। বাকি চারপাশ নিকষ কালো অন্ধকার।

অথচ গত বছরও মহালয়ার পরের দিন থেকেই পরিবেশটা ছিল অন্যরকম। আলোকজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল নাকতলা উদয়ন সংঘের মাঠ। ভিড় লেগেই থাকত দর্শনার্থীদের। গত ১১ বছর ধরে যে পুজোর উদ্বোধন করতেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বার তাঁকে বার দু’য়েক ইমেল পাঠিয়েও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই এ বার উদ্বোধনে অন্য বৈচিত্র্য আনা হয়েছে বলে জানালেন সংঘের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন দাস। খেটে খাওয়া বিভিন্ন পেশার মানুষই নাকি এবার নাকতলা উদয়ন সংঘের পুজো উদ্বোধন করবেন বলে জানালেন তিনি। সেই তালিকায় রয়েছেন, রিক্সাচালক থেকে যৌনকর্মী।

এ বছর নাকতলা উদয়ন সংঘের পূজার থিম ‘মোটা কাপড়’। কেন এই থিম? অঞ্জনের কথায়, ‘স্বদেশি যুগ করে শরণ করে এই থিম বেছে নেওয়া হয়েছে। যে ভাবে উদ্বাস্তু হয়ে মানুষে চল এসেছিলেন এ দেশে, তখন রুজি জোরগারের জন্য মেয়ে হাতে তুলে নিয়েছিল সুচ ও সুতো — তাকেই এই থিমের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। সুতোয় বোনা বেশ কিছু হাতের কাজের নিদর্শন রয়েছে এই থিমে। রয়েছেন খাদি আন্দোলনের জনক গান্ধী।

এই পুজোর অন্যতম উদ্যোগতা ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এখন বিচার বিভাগীয় হেফাজতে। তার বিশেষ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায় ছিলেন গত বছরের পুজোর মুখ। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এর প্রভাব কি পুজো সংগঠনে পড়েছে? স্পনসররা কি মুখ ঘুরিয়েছেন? অঞ্জন দাস জানালেন, তেমন কিছুই হয়নি। পুজোর আয়োজন অন্যান্য বারের মতো হয়েছে। স্পনসররাও কেউ হাত তুলে নেননি। প্রথম দিকে কিছুটা তারা কিছুটা ধন্দে ছিলেন। পরে সেই ধন্দ কাটিয়ে নিজেরাই এগিয়ে এসেছেন স্পনসর করতে। সম্পাদকের কথায়, ‘৩৪ বছর ধরে এই পুজো হচ্ছে। কোনও ব্যক্তি মানুষের উদ্যোগ নয়। ক্লাবের সদস্যরা ও এলাকার মানুষের উদ্যোগ এই পুজো। পার্থদা থাকলে হয়তো আরও ভালো হতো। তবু এ বছর কম কিছু হয়নি।’

কম না হলেও আক্ষেপ তো একটা রয়েই গিয়েছে। গত ১১ বছর ধরে যে পুজোর উদ্বোধন ‘দিদি’ করেছেন, এ বছর তিনি সময় দিতে পারলেন না। এ কি তবে পার্থ কাণ্ডের প্রভাব? ধরা গলায় অঞ্জনবাবু বলেন , ‘দিদি তো ব্যস্ত থাকেন, তাই হয়তো সময় দিতে পারেননি।’ তাঁর আশা আগামী বছর হয়তো ফের ‘দিদি’র হাতেই আবার হবে পুজো উদ্বোধন।

Related Articles