টাইমলাইনভারতরাজনীতি

৪০ জন বিধায়ককে নিয়ে অসমে ঘাঁটি গাড়লেন একনাথ শিন্ডে! আরও চাপে মহারাষ্ট্রের জোট সরকার

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মহারাষ্ট্রে শিবসেনার অস্বস্তি ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। ভবিষ্যতে উদ্ধব ঠাকরে সরকার ক্ষমতায় থাকে কিনা, সেই বিষয় নিয়ে বর্তমানে প্রশ্ন চিহ্ন উঠে গিয়েছে। আর এই সকল আশঙ্কার মাঝেই এদিন বাণিজ্যনগরী থেকে উঠে এলো আরো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, এদিন রাজ্যপালের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরেই তাঁকে দক্ষিণ মুম্বইয়ের রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রাজ্যপালের করোনা আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি যে খবরের দিকে নজর রেখে চলেছে সমগ্র দেশ, তা হল মহারাষ্ট্রের ‘রাজনৈতিক অঙ্ক’। একদিকে যখন শিবসেনার বিদ্রোহী নেতা একনাথ শিন্ডে এখনো পর্যন্ত শিবসেনার সাথে থাকারই দাবি করে চলেছেন, অপরদিকে তাঁর ক্রমাগত গতিবিধি সেই বক্তব্যের প্রতি সুবিচার করছে না! প্রসঙ্গত, শিবসেনার সাথে মতবিরোধ হওয়ার পরেই জানা যায়, বিশাল সংখ্যক বিধায়কদের নিয়ে গুজরাটে আশ্রয় নিয়েছেন এই বিদ্রোহী নেতা। তবে বর্তমানে জানা গিয়েছে, 40 জন বিধায়কের সঙ্গে নিয়ে অসমের গুয়াহাটিতে পৌঁছে গিয়েছে একনাথ শিন্ডে। এমনকি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “এখন আমার সঙ্গে 40 জন বিধায়ক যুক্ত রয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আরো 10 জন যুক্ত হতে পারেন। আমি শিবসেনার সাথে থাকতেই প্রস্তুত রয়েছি।”

তবে তাঁর এই বক্তব্যের পরেও জল্পনা থামার কোনো লক্ষণ নেই। মহারাষ্ট্রের বর্তমান সংকটের মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বুধবার সকালে শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউতের বাড়ির সামনে একটি পোস্টার পড়ে। যেখানে লেখা থাকে, “তোমার অহংকার মাত্র চার দিনের, তবে আমাদের বাদশাহী জন্মগত।” যদিও এই প্রসঙ্গে পরবর্তীকালে শিবসেনা নেতা বলেন, “আমাদের দলের সম্মান সবার উপরে। বর্তমানে এমন অনেক খবর রটানো হচ্ছে, যেগুলি সত্য নয়। আমরা ক্রমাগত এই সঙ্কট মাঝে আলোচনা করে চলেছি।”

দুই পক্ষের এই বাদানুবাদ মাঝেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, “মহারাষ্ট্র তবে কার?”
পরিসংখ্যান বলছে, বাণিজ্যনগরীর বিধানসভায় মোট আসন সংখ্যা 288। তবে একজন বিধায়কের মৃত্যু হওয়ার ফলে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে 287। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে যদি আস্থাভোটের দিকে যেতে হয়, তবে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন 144 টি ভোট। তবে বর্তমানে 40 থেকে 50 বিধায়ক যদি শিবসেনা জোট ছেড়ে বেরিয়ে যান, তবে সরকার গড়া যে কোনভাবে সম্ভব হবে না, তা বুঝতে পেরেছ উদ্ধব ঠাকরেএ দল।

এক্ষেত্রে সরকার গড়ার লক্ষ্যে অনেকাংশে এগিয়ে যাবে বিজেপি আর সেই কারণেই শিন্ডে সহ আরও 40 জন বিধায়কের বিজেপি শাসিত অসমে পৌঁছে যাওয়ার মাঝে রাজনীতির গন্ধ খুঁজে পাচ্ছে বিশেষজ্ঞরা। তবে পরবর্তীকালে মহারাষ্ট্রে এই রাজনৈতিক সমীকরণ কোথায় গিয়ে পৌঁছায়, সে দিকে তাকিয়ে সকলে।

Related Articles

Back to top button