টাইমলাইনকলকাতা

সরকারের দেওয়া ক্ষতিপূরণ নিতে অস্বীকার কলকাতায় বিদ্যুৎপিষ্ট হয়ে মৃত ঋষভের পরিবারের

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গত কয়েকদিনের প্যাচপ্যাচে গরমের পর কলকাতাবাসীকে বেশ কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল মঙ্গলবারের ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। কিন্তু কেউ কি জানতো বৃষ্টির কারণে রাস্তায় জমা জলই হয়ে উঠবে ২৫ বছরের তরতাজা যুবক ঋষভের মৃত্যুর কারণ। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থায় চাকরি করার স্বপ্ন নিয়ে কলকাতায় এসেছিল ফারাক্কার এই তরুণ। কিন্তু মঙ্গলবার হঠাৎই সমস্ত স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল এক ভয়ঙ্কর পথদুর্ঘটনায়। রাস্তার জমা জলের মধ্যে পড়ে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল তরুণ ঋষভের। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। জল জমে ছিল রাজভবনের সামনেও। নর্থ গেটের কাছে টাল সামলাতে না পেরে রাস্তার জমা জলের মধ্যে পড়ে যায় ঋষভ। সে সময় সামলাতে গিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির ওপর হাত রাখতেই ঘটে দুর্ঘটনা। এত ঝড় বৃষ্টির পর কেন বন্ধ করা হয়নি বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিকভাবেই উঠছে প্রশ্ন। সাথে সাথে এও প্রশ্ন উঠছে কলকাতায় ঝড় বৃষ্টির পর বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম নয়। তবে কেন আগেভাগে শিক্ষা নেয়নি প্রশাসন।

মাত্র দু’বছর আগে কলকাতায় চাকরি পেয়েছিল ঋষভ। ৮ এপ্রিল শেষবার ফারাক্কায় নিজের বাড়ি গিয়েছিল সে। ঋষভের এই অকাল মৃত্যুর পর দু লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছিল কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে। কিন্তু ক্ষতিপূরণের প্রয়োজন নেই একথা স্পষ্টই জানিয়ে তার পরিবার। মৃত ঋষভ মন্ডলের বা বিপাশা মন্ডল জানান, “যাঁদের জন্য অকালে ছেলেকে হারাতে হল, তাঁদের শাস্তি দেওয়া হোক।” বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা মা ছাড়া কেবল এক দিদি রয়েছে ঋষভের। তার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের একমাত্র ভরসা ছিল এই যুবক। তার এভাবে অকালে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না কেউই। প্রশাসনের অসচেতনতায় এ ধরনের ঘটনা ক্ষুব্ধ ঋষভের জামাইবাবু কেশবচন্দ্র পালিতও। এদিন এসএসকেএম থেকে ঋষভের দেহ নিতে এসে শোকোস্তব্ধ কেশববাবু বলেন , ক্ষতিপূরণ নিয়ে কি হবে বলুন তো? বাড়ির একমাত্র ছেলের এই পরিণতির দায় কার? সরকার নিশ্চিত করুন যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে। ওই টাকা দিয়ে বরং সেই ব্যবস্থা করা হোক। একই রকম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঋষভের দিদিও। তার কথায় আমরা কি আশা করেছিলাম সরকারের গাফিলতিতে আজ আমার ভাইয়ের এই অবস্থা হবে? একইসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকার টাকা দিয়ে ভোলোতে চাইছে৷ আমি সরকারকে দশগুন টাকা দিচ্ছি, সরকার আমার ভাইকে ফিরিয়ে দিতে পারবে?”

স্বাভাবিকভাবেই এই মৃত্যু রীতিমতো বিধ্বস্ত করে দিয়েছে পরিবারকে। ফারাক্কার এনটিপিসির নবারুণ এলাকার বাড়িতে এখন শোকের ছায়া। অন্যদিকে দুর্ঘটনা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন পরিবহন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পুলিশ জানিয়েছে প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে খতিয়ে দেখা হবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ। পরিবহন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম অবশ্য এদিনও স্বীকার করে নেন, এই দুর্ঘটনার পিছনে অনেকখানি হাত রয়েছে বিদ্যুৎ চুরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের। এদের দমন না করতে পারলে আগামী দিনেও এমন অনেক দুর্ঘটনা দেখতে হতে পারে কলকাতাকে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

Related Articles

Back to top button