টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গবিধানসভা নির্বাচন

ববির ঘরেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে উঠল আওয়াজ! টিকিট না পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট নেতার

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা সেম সাইড গোল নয়তো? চারিদিকে যেভাবে তৃণমূলের নেতা-বিধায়করা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সেটা নিয়ে এই প্রশ্নই বারবার উঠে আসছে। গতকালের তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় জায়গা পাননি দলের ২৬ জন বিধায়ক এবং তিনজন মন্ত্রী। এরপর থেকে তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ বেড়ে চলেছে। গতকালই টিকিট না পেয়ে দল ছেড়েছেন তৃণমূল বিধায়ক মইনুদ্দিন সামস এবং টিকিট প্রত্যাশী দীনেশ বাজাজ। এছাড়াও আরাবুল ইসলাম, সোনালী গুহদের গলায় বিক্ষোভের সুরও শোনা গিয়েছে।

আজ তৃণমূল বিধায়ক জটু লাহিড়ী টিকিট না পেয়ে সোজা পদ্ম শিবিরে গিয়ে যোগ দিয়েছেন। শোনা যাচ্ছে যে, তৃণমূলের অনেক নেতা-বিধায়ক টিকিট না পেয়ে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আরেকদিকে, বিজেপির এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, দলে স্বাগত জানাতে পারি কিন্তু টিকিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারব না। এছাড়াও টিকিট না পেয়ে দলের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল সভাপতি অখিল গিরির ছেলে সুপ্রকাশ গিরি। শোনা যাচ্ছে উনি খুব শীঘ্রই দল ছেড়ে দিতে পারেন।

গতকাল প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর তিনি কালীঘাটেও গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে কোনও সুরাহা হয়নি। এরপরই তিনি ফেসবুকে দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক পোস্ট করেন। বলে রাখি, সুপ্রকাশ গিরি হলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার যুব তৃণমূলের সভাপতি। আর ওনার বাবা অখিল গিরি জেলা তৃণমূলের সভাপতি। অখিলবাবু রামনগর আসন থেকে টিকিট পেলেও পুত্র সুপ্রকাশ টিকিট পাননি। সুপ্রকাশ গিরির এহেন ক্ষোভ আসন্ন নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসন থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের পথে বড় কাঁটা হতে পারে।

আরেকদিকে এবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের জামাতা ইয়াসির হায়দরও। ফিরহাদ হাকিমের ঘরে বিক্ষোভের সুরে অশনি সঙ্কেত দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রসঙ্গত ফিরহাদ হাকিমের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হলেন ইয়াসির হায়দর। আর সেই উত্তরসূরি মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল দলের প্রতি ক্ষোভ ব্যক্ত করলেন।

একটি ফেসবুক পোস্ট করে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন ইয়াসির। তিনি লেখেন, ‘একজন বুদ্ধিমান মানুষ আমাকে বলেছিলেন যে, তারকা অথবা বিখ্যাত মানুষ হলে সহজেই নির্বাচনের টিকিট পাওয়া যায়। আমি তখন ওনার কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনিনি। কিন্তু এখন সেটাই বাস্তব বলে মনে হচ্ছে। যারা ৩৬৫ দিন ২৪ ঘণ্টা দলের হয়ে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তাঁরাই আজ দলে উপেক্ষিত।”

ফিরহাদের জামাতার ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, ইয়াসিরের টিকিট পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দল দেয়নি। তাঁদের মতে ফিরহাদ হাকিমের এই নিয়ে কিছু করা উচিত ছিল। কিন্তু উনি তা করেন নি। আবার ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ সুত্র জানায়, ‘ববি হাকিম প্রভাব খাটানোর মানুষ নন। তিনি দলের একজন সাধারণ সৈনিক মাত্র। তাই তিনি প্রভাব খাটিয়ে নিজের জামাতাকে টিকিট দিতে চাননি। নেত্রী যা ঠিক মনে করেছেন, সেটা তিনিও মাথা পেতে মেনে নিয়েছেন।”

Back to top button