টাইমলাইনভারত

১ জুলাই থেকে পাতাল লোকে যাচ্ছেন ভগবান বিষ্ণু, হবে না মঙ্গলকার্য

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ দেবতারাও (God) কি কোয়ারেন্টিনে যান? তারাও কি মানুষের মত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন? ভগবানেরও কি নিদ্রা আসে? এসকল প্রশ্ন মানুষের মনের মধ্যে দানা বাধলেও, সবগুলোর কিন্তু সঠিক উত্তর নাও পাওয়া যেতে পারে। তবে দেবতারাও কিন্তু সকলের আড়ালে যান। নির্দিষ্ট সময়ে তারাও আর সকলের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলেন।

আগামী ১ লা জুলাই থেকে হল সেই সময়ের শুরু। যখন ভগবানদের একটি আলদা ঘরে রাখতে হয়। পাতাললোকে যাবেন সমস্ত দেবতা। এই দলে রয়েছেন স্বয়ং বিষ্ণুও। পুরাণে বলা আছে, এই সময় শুধুমাত্র চিকিৎসক এবং ব্যক্তিগত কর্মচারীরা ছাড়া আরও কেউ ভগবানের দর্শন পাবে না। এই সময়কালে কোন মঙ্গল কাজ করা যায় না। ভগবান জগন্নাথকেও ১৫ দিনের জন্য নির্জনে একটি বিশেষ ঘরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।

এই বছর এই সময়কাল ১ লা জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে। এই সময়কালকে আবার চাটুর্মাসও বলা হয়। এই সময়কালে অনেক ব্যক্তি একটিও মিথ্যে কথা বলেন না। যদি এই কঠোর নিয়ম কেউ সঠিক অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে পারেন, তাহলে তিনি নিজের ভিতরে আধ্যাত্মিক আলো দেখতে পাবেন।

এই সময়কালে কোনোরকম শুভ কাজ করা নিষিদ্ধ। বিবাহ, গৃহ প্রবেশ একদমই করা উচিত নয়। একাদশী করার পেছনে ব্যাখ্যা হল, নিজের মন প্রাণ উজার করে ভগবানের সেবা করা। পরিবর্তিত পরিবেশে যখন শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেবে, তখন একাদশি করলে আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জন হয় বলে মনে করা হয়। নেতিবাচক শক্তির বিনাশ ঘটে শুভশক্তির বিকাশ হয়।


ভগবান বিষ্ণুর এই নিদ্রা কাল চলবে ১ লা জুলাই থেকে ২৫ শে নভেম্বর পর্যন্ত। পূর্বে বলা হত এই সময়কালে কোন শুভ কাজ না করাই ভালো।তবে বর্তমানে বিবাহ বা অন্যান্য শুভ কাজ থেকে বিরত থাকার নিষেধাজ্ঞা আর মান্য করতে হয় না।
এই দেবশায়ানী একাদশীর প্রায় চার মাস পর ভগবান বিষ্ণু প্রবোধিনী একাদশীর দিন নিদ্রা থেকে জাগ্রত হন।

ভগবান বিষ্ণুর প্রেম ও স্নেহ লাভের উদ্দ্যেশ্যে ভক্তদের একাদশী উপবাস পালন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। দশমীর রাতে এই দেবশায়ানী একাদশী উপবাস শুরু হয়। পর দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিনের কাজ থেকে অবসর নিয়ে উপবাস ভঙ্গ করতে হয়। ভগবান বিষ্ণুর মূর্তির পূজা করতে হয়। স্নান সেরে ধূপ, প্রদীপ, ফুল, তাম্বুল, পুঙ্গিফল সহযোগে ভগবানের আরাধনা করতে হয়। তবে এই উপবাস করবার সময় ব্যক্তিকে তাঁর মন প্রাণ এক ইন্দ্রিয়ের অধীনে শান্ত রাখতে হবে।

Back to top button
Close