টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গ

ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদক্ষেপ প্রশংসনীয় জানাল হাইকোর্ট

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ২ মে শেষ হয়েছে বাংলার ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য নবান্ন দখল করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ভোট শেষে এত আনন্দের মাঝেও গলায় কাটার মত খচখচ করছিল নির্বাচন পরবর্তী হিংসার বেশ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় অসন্তোষ। বিভিন্ন দলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে প্রাণ হারান প্রায় কুড়ি জন মানুষ। কেউ যেমন গেরুয়া শিবিরের তেমনি কেউ কেউ আবার শাসক দলের কর্মী সমর্থক। এ সংঘর্ষের শিকার হতে হয়েছে আইএসএফ তথা সংযুক্ত মোর্চা কর্মীদেরও।

এই নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সরব হয়েছিল এরাজ্যের প্রধান বিরোধীদল ভারতীয় জনতা পার্টি। শুধু তাই নয় শাসন ব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় তুলে রাজ্যকে একাধিকবার আক্রমণ করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরও। রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তরফেও। রাজ্য তাতে তেমন ভাবে সহযোগিতা না করায় পশ্চিমবঙ্গে এসেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পাঠানো চার সদস্যের কমিটিও। এখন তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী আগামী দিনে পদক্ষেপ নেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। রাজ্যে হিংসা এবং হানাহানির এই ঘটনায় মামলা দায়ের হয় হাইকোর্টেও। জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেন অনিন্দ্যসুন্দর দাস নামে এক আইনজীবী।

তবে বারবার অভিযোগের মধ্যে এবার হাইকোর্টে অন্তত কিছুটা স্বস্তি পেল রাজ্য। নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা দমনের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ভূমিকার প্রশংসাই করল আদালত। এদিন রাজ্যের সরকারি আইনজীবী আদালতকে জানান, ৭ মে এবং 8 মে-র পর থেকে এরাজ্যে আর কোন প্রাণহানি ঘটেনি। রাজ্যের এই উত্তরে সন্তুষ্ট হাইকোর্ট। আদালতের মতে প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রাপ্তির পর থেকে যে যে ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য তা প্রশংসনীয়। এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী মঙ্গলবার। এদিনই হিংসার ঘটনা ও তার উঠতে সরকার কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে সূত্রের খবর। অবশ্য এদিন কেন্দ্র এবং রাজ্য সকলকেই ভোট-পরবর্তী হিংসার বিরুদ্ধে একযোগে মোকাবিলার জন্য আহবান জানায় আদালত।

ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে এই মুহূর্তে রীতিমতো সমস্যায় রাজ্য। আজও হিংসার ঘটনার কথা উল্লেখ করে একাধিক অভিযোগ এনেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। তিনি এও অভিযোগ করেছিলেন যে, এভাবে গণতন্ত্র রক্ষা করা যায় না। সারা বিশ্ব থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে। ভোট-পরবর্তী হিংসা বন্ধ করতে রাজ্য যে ভূমিকা নিয়েছে তা মোটেই যথেষ্ট নয়। এ দিন মানুষকে ভোট দেওয়ার মূল্য দিতে হচ্ছে বলেও আক্ষেপ করেন তিনি। কিন্তু তাহরপর আদালতের এই বক্তব্য নিশ্চয়ই কিছুটা স্বস্তি দেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। নির্বাচন কমিশনের হাতে আইন প্রশাসনের ভার থাকায় ভোট-পরবর্তী হিংসার ক্ষেত্রে তিনি তেমন কিছুই করতে পারেননি, এ কথা আগেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এখন দায়িত্ব পুরোটাই তার হাতে। আজ নিজেই স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। তাই আগামী দিনে ভোট-পরবর্তী হিংসার আর কাউকে যেন শিকার হতে না হয় সেটাই এখন কাম্য।

Related Articles

Back to top button