টাইমলাইনভারত

‘মায়ের গর্ভ চাষের জমি হতে পারে না” বদরুদ্দিনকে কড়া জবাব হিমন্তর

বাংলাহান্ট ডেস্ক : এআইইউডিএফ (AIUDF) দলের প্রধান বদরুদ্দীন আজমলকে রীতিমতো হুমকি দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। গত শুক্রবার বিতর্কিত মন্তব্য করেন বদরুদ্দীন আজমল (Badruddin Ajmal)। তিনি বলেন, কম বয়সে মুসলিম মেয়েদের বিয়ে হয় বলেই তাঁদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হিন্দুদেরও উচিত বিয়ের ক্ষেত্রে মুসলিমদের পথ অনুসরণ করা। তবেই বৃদ্ধি পাবে হিন্দু জনসংখ্যা। এর কারণও বলে দেন আজমল।

বদরুদ্দীনের মতে, ‘বাঁজা জমিতে ফসল উৎপাদন হয় না। ভালো ফসল হয় একমাত্র উর্বর জমিতে’। এই মন্তব্যের পরেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই মন্তব্য করার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। কিন্তু তাতেও ঠান্ডা হয়নি বিতর্ক। এরপর সোমবার, এআইইউডিএফ (AIUDF) দলের প্রধানকে নিশানা করেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)। তিনি আজমলকে উদ্দেশ্য করে বলেন , ‘মায়ের গর্ভকে চাষের জমি মনে করবেন না।’

এরই সঙ্গে মুসলিম মহিলাদের কাছে অনুরোধ করেন আজমলের বার্তাকে গুরুত্ব না দেওয়ার জন্য। তিনি বলেন, ‘সবার উচিত সর্বাধিক দুটি সন্তানের জন্ম দেওয়। তাহলে তাঁকে ভালো শিক্ষা দিতে পারবেন। আপনার সন্তানকে চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার বা শিক্ষক তৈরি করুন এবং বদরুদ্দীন আজমলের মতন লোকের হাত থেকে মুক্তি পান। আমাদের উচিত হিমা দাস, নয়নমনি সাইকিয়া এবং লাভলিনা বর্গিহাইঁ (Lovlina Borgihain)-এর মতন সন্তান , যারা নতুন অসম তৈরি করবে।
এদিন বঙ্গাইগাঁও এলাকায় একাধিক প্রকল্পের শিল্যানাস করেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সেই অনুষ্ঠানেই বদরুদ্দীন আজমলকে তোপ দাগেন তিনি। অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি যদি আপনার সন্তানের সব দায়িত্ব এবং খরচ বহন করেন তাহলে যত খুশি সন্তানের জন্ম দিন।

আর তিনি যদি তাদের দায়িত্ব নিতে না পারেন, তাহলে তাঁর এই রকম মন্তব্য করার কোনও অধিকার নেই। আপনার সন্তানরা যেন স্কুলে যায়, সঠিক শিক্ষা পায় তার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু যদি তারা এই সুবিধা পেতেই না পারেন তাহলে এত বেশি সন্তানের জন্ম দিয়ে কী লাভ?’ এরই সঙ্গে দারিদ্র দূরীকরণের দিকেও নজর দিতে বলেন তিনি। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর মতে, রাজনৈতিক ফায়দলা লাভের জন্য এবং মুসলিমদের ভোট পাওয়ার জন্যই এই ধরনের মন্তব্য করেছেন বদরুদ্দীন আজমল (Badruddin Ajmal)। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এদিন আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের ভোট চাইছি না, কিন্তু দয়া করে আজমলের কথা শুনবেন না।’

Related Articles