টাইমলাইনফুটবলখেলা

কর্তাদের অপদার্থতায় আবারও মাথায় হাত ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের, ক্লাব ছাড়ছেন হীরা মন্ডল

বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্ক: আগেই দল ছেড়েছিল রাহুল পাশওয়ান এবং মহম্মদ রফিক। গতবারের কলকাতা লিগের সর্বোচ্চ স্কোরার হয়েছিলেন রাহুল। জানুয়ারি মাসে তাকে দলে নিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবে যোগ দিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন রাহুলও। কিন্তু কর্তাদের অপদার্থতায় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ঝুঁকি নিতে চাননি তিনি। যোগ দিয়েছেন মহামেডানে। মহম্মদ রফিক গত দুই মরশুমে ইস্টবেঙ্গল এর জার্সি গায়ে সেরা প্লেয়ার বলাই যায়। নিজের সাধ্যের বাইরে গিয়ে পরিশ্রম করে ইস্টবেঙ্গলকে নিজের স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন রফিক। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের ইনভেস্টর সমস্যার কারণে চেন্নাইয়ানের অফার পেয়ে আর দ্বিতীয়বার ভাবেননি তিনি। ফারুক গত মরশুমের আরেক ভালো ফুটবলার কে হারিয়ে ফেলল ইস্টবেঙ্গল।

গত আইএসএল মরশুমে চূড়ান্ত খারাপ পারফরম্যান্স করেছিল এসসি ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু মশালের নিচের সেই অন্ধকারেও জ্বলজ্বলে ছিলেন হীরা মণ্ডল। লাল হলুদ জার্সির জন্য গত মৌসুমে নিজের জান লড়িয়ে দিয়েছিলেন হীরা। গোল লাইন ক্লিয়ারেন্স থেকে শুরু করে নিখুঁত ট্যাকেল, ইস্টবেঙ্গল রক্ষণভাগের বাঁ দিকটা কে নিজের বুক দিয়ে আগলে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্লাবের টালমাটাল অবস্থার মধ্যে বাধ্য হয়েই এখন তাকে ইস্টবেঙ্গল ছাড়তে হচ্ছে।

 

হীরার কাছে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আবেগ লুকিয়ে সরাসরি জবাব দিয়েছেন। হীরা জানিয়েছেন তার সম্ভাব্য নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি বেঙ্গালুরু এফসি তাকে ইস্টবেঙ্গল এর চেয়ে অনেকটাই বড় আর্থিক অংকের চুক্তিতে সই করাচ্ছে। যদিও অফিশিয়াল ঘোষণা না হওয়া অবদি তিনি টাকার অংক খোলসা করতে রাজি হননি। নতুন ইনভেস্টর এলে কি পরিবেশ তৈরি হবে, কে কোচ হবে, কিছুই স্পষ্ট না। সেইজন্যই লাল-হলুদ ছাড়ার জন্য আর বেশি ভাবতে হয়নি তাকে। পরের মরশুমে সুনীল ছেত্রী দের সঙ্গে খেলতে প্রস্তুত তিনি।

ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলা হীরার কাছে স্বপ্ন ছিল ছোটবেলা থেকেই। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল গত মরশুমে। ওড়িশা এফসি বিরুদ্ধে তার গোললাইন সেভ, নর্থইস্ট এর বিরুদ্ধে নাক ফেটে যাওয়া সত্ত্বেও খেলা চালিয়ে যাওয়া নানা ঘটনা প্রমাণ করে যে লাল-হলুদ ক্লাবকে নিয়ে কতটা আবেগ তাড়িত ছিলেন তিনি। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের কর্তারা তার সেই আবেগকে সম্মান দিতে পারলেন না। এখনো ইমামির সঙ্গে সরাসরি কথা বলে উঠতে পারেননি তারা। ফলে দল গঠনও আটকে রয়েছে। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের আফসোস করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।

Related Articles

Back to top button