টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গবিশেষভারতকলকাতা

ক্যালকাটা থেকে কলকাতা নাম কী ভাবে বদলে ফেলা হয়েছিল? কত খরচ পড়েছিল জানলে অবাক হবেন!

বাংলাহান্ট ডেস্ক: সময়ে সময়ে দেশের বেশ কিছু শহরের নাম বদল (City name changed) হয়েছে। ক্যালকাটা হয়েছে কলকাতা (Kolkata), বোম্বে হয়েছে মুম্বই (Mumbai)। বা সাম্প্রতিক এলাহাবাদের নাম বদলে রাখা হয়েছে প্রয়াগরাজ। এই নামগুলি বদল হলেও মানুষের মনে শহরের অলি-গলি, রাস্তাঘাট, নদী-নালা থেকেই যায়। আর সঙ্গে থেকে যায় একটি প্রশ্ন। সরকার কোন পদ্ধতিতে শহর, রাস্তা বা জেলার নাম বদল করে? এর জন্য কত খরচই বা করতে হয় সরকারকে? এই প্রতিবেদনে আমরা খুঁজব এর উত্তর।

সাম্প্রতিক কালে শহরের নাম বদলে শীর্ষে থেকেছে উত্তরপ্রদেশ। মুঘলসরাই রেল স্টেশনের নাম বদলে পন্ডিত দীন দয়াল উপাধ্যায়ের নামে রেখেছে যোগী সরকার। আবার এলাহাবাদের নাম বদলে রাখা হয়েছে প্রয়াগরাজ। ফৈজাবাদ হয়েছে অযোধ্যা। এর পাশাপাশি, একাধিক জেলা যেমন আলিগড়, ফারুকাবাদের নামও বদলের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। শুধু যোগীরাজ্যই নয়, মধ্যপ্রদেশের তিনটি শহরের নামও পাল্টে ফেলা হয়েছে। ২০১৮ সালে বীরসিংপুর পালির নাম বদলে রাখা হয় মা বীরাসিনি ধাম। 

Prayagraj station

২০২১ সালে হশাঙ্গাবাদের নাম বদলে রাখা হয় নর্মদাপূরম। একই ভাবে বাবাই শহরের নাম পাল্টে রাখা হয় মাখননগর। এছাড়াও কর্নাটকে বেশ কয়েকটি শহরের নাম বদলে ফেলা হয়েছে। ব্যাঙ্গালোর যেমন হয়েছে বেঙ্গালুরু। অন্যদিকে মাইসোর থেকে মাইসুরু এবং ম্যাঙ্গালোর থেকে মেঙ্গালুরু উল্লেখযোগ্য। সে রাজ্যের মোট ১২টি শহরের নাম পাল্টে ফেলা হয়েছে। একইভাবে গুরগাঁও এর নাম পাল্টে রাখা হয়েছে গুরুগ্রাম। মুম্বইয়ের এলফিনস্টোন রোড হয়েছে প্রভাদেবী। 

বিগত কয়েক বছরে রাজধানী দিল্লির বেশ কয়েকটি রাস্তার নামও বদলে ফেলা হয়েছে। যেমন রাজপথের নাম পাল্টে রাখা হয়েছে কর্তব্যপথ। কার্জন রোডের নাম হয়েছে কস্তুর্ব রোড। রেসকোর্সের ও নাম পাল্টে ফেলা হয়েছে। সেটির নাম হয়েছে কল্যাণ মার্গ। ঔরঙ্গজেব রোডের নাম রাখা হয়েছে এপিজে আব্দুল কালাম রোড। এছাড়াও ডালহৌসি রোডের নাম রাখা হয়েছে শিকহ রোড। 

Calcutta

একটি জায়গার নাম বদলের সিদ্ধান্ত কে নেয়? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, একটি জায়গার নাম বদলের আগে সেই জায়গার সাধারণ মানুষের অনুভূতির কথা ভাবতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যাতে কারও অনুভূতিতে আঘাত না লাগে। একটি জায়গার নাম বদলের ক্ষেত্রে সেই শহরের পৌরসভার অনেকটাই ভূমিকা থাকে। যেমন কলকাতার কোন রাস্তার নাম বদলে হাত রয়েছে কলকাতা পৌরসভার। আগে খতিয়ে দেখা হয় সমস্ত নির্দেশিকা মানা হচ্ছে কিনা। তারপরেই নাম বদলের পদ্ধতি শুরু করা হয়।

তবে একটি শহর বা জেলার নাম বদলানোর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মন্ত্রিসভার তরফে। জায়গার নাম বদল করা হবে কিনা সেই প্রস্তাব প্রথমে পাশ হয় মন্ত্রিসভায়। প্রস্তাব পাশ হওয়ার পর নতুন নামের একটি মেমোরেন্ডাম তৈরি হয়। এটি তৈরি হওয়ার পরেই নতুন নাম স্বীকৃতি পায়।

একটি জায়গার নাম বদলে ফেললে তার পেছনে অনেকটাই খরচ করতে হয় সরকারকে। প্রায় ২০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অন্যদিকে, কোনও রাজ্যের নাম বদল হলে সেই খরচ ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এটি নির্ভর করে সেই শহরটির দেশে বা পৃথিবীতে কতটা জনপ্রিয় তার উপর। কোনও শহরের নাম বদল হলে সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রেল স্টেশনের নামও বদল করা হয়। এটি করতে বেশ অনেকটা টাকাই খরচ হয় সরকারের।

Related Articles