টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

দল ছাড়তেই দিলীপ ঘোষকে খোঁচা, বর্ণপরিচয় উপহার দিয়ে বাংলা শেখাতে চান বাবুল সুপ্রিয়

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) এবং বাবুল সুপ্রিয়র (Babul Supriyo) মধ্যেকার তিক্ততার রয়াসন অজানা ছিল না কারোরই। দুজনেই বিজেপির সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও, তাঁদের মধ্যে মতের অমিলই ছিল বেশি। হাতে গুনে কয়েকবার তাঁদের সহমত হতে দেখা গিয়েছিল কিছু বিষয়ে।

তবে সেসব এখন অতীত। বিজেপিকে ধাক্কা দিয়ে শনিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের হাত ধরে সবুজ শিবিরে যোগ দেন বাবুল সুপ্রিয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্ব হারানোর পর থেকে তাঁকে নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ ছিল না রাজনৈতিক মহলে। সমস্ত আলোচনা পর্যালচনা শেষ করে, তৃণমূলে নাম লেখালেন বাবুল।

বাবুলের এই দলবদলে তাঁকে ‘রাজনৈতিক পর্যটক’ বলে আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। চুপ না থেকে পাল্টা দিয়ে বাবুল বলেন, ‘বর্ণপরিচয় উপহার দেব দিলীপ ঘোষকে। বাংলা শেখার প্রয়োজন ওনার। শুধু শুধু বাংলা ভাষাটাকে কলঙ্কিত করবেন না’।

দিলীপ ঘোষ ২০১৫ সালে সংঘ পরিবার থেকে রাজনীতিতে যোগ দিলেও, সেই ২০১৪ সাল থেকে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। অল্প সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভরসার স্থল হওয়ায় তাঁকে পূর্তমন্ত্রী করা হয়। তবে এবারে পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, তাঁকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা থেকে বাদ দেওয়ায় ভেঙে পড়েন বাবুল। স্যোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা বাড়িয়েছিলেন।

সেই সময়ও বাবুলকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি বিজেপির রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা একটু এক্সপেরিমেন্ট করেছিলাম, কিন্তু সেটা কাজে আসেনি। পার্টি যাদের উপর নির্ভর করে, তাঁরা দলে রয়েছে। ওনাকে যদি বরখাস্ত করা হত, তাহলে কি ভালো দেখাত?’ তিনি কটাক্ষ করে আরও বলেছিলেন, ‘মাসির গোঁফ হলে তবেই তাঁকে মেসো বলব। তা আগে মাসির গোঁফ গজাক’।

তবে সেই সময় চুপ করে ছিলেন না প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দিলীপকে আক্রমণ করে বাবুল বলেছিলেন, ‘রাজ্য সভাপতি সকলের শ্রদ্ধার পাত্র। উনি মনের আনন্দে অনেক সময় অনেক কিছুই বলেন’।

Related Articles