টাইমলাইনভারত

জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ! অসমে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হল মাদ্রাসা

বাংলাহান্ট ডেস্ক : উত্তর প্রদেশের (UP) পর এবার অসম (Assam)। অবৈধ মাদ্রাসা (Madrasa) ভাঙা হলো বুলডোজারের সাহায্যে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Himanta Biswa Sharma) কিছুদিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে অসম সরকারের এই বুলডোজার অ্যাকশন একদিকে প্রশংসিত এবং অপরদিকে সমালোচিত হচ্ছে।

গত বছর অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, ‘জনগণের অর্থে কোনও ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হবে না। কেউ যদি ব্যক্তিগত অর্থ খরচ করে ধর্মীয় শিক্ষা দিতে চান, তাহলে সরকারের বলার কিছু নেই। কিন্তু সরকারি অর্থে সেটা চলতে পারে না। যদি আরবি শিক্ষা দিতে হয়, তাহলে গীতা বা বাইবেল শিক্ষারও ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে।’ সব সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসা আর সংস্কৃত টোল বন্ধ করে দিয়ে সেগুলিকে হাইস্কুলে পরিণত করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও ঘোষণা করেন মাদ্রাসা বা টোলগুলিতে যারা ধর্মশিক্ষা দেন, তাদের যতদিন চাকরী বাকি আছে, ততদিনই মাসে মাসে বেতন পেয়ে যাবেন তাঁরা, আর যারা অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষক রয়েছেন, তাদের বিভিন্ন স্কুলে পড়াতে হবে।

মি. বিশ্বশর্মা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয় নি। সংস্কৃত টোলও তো বন্ধ করা হচ্ছে!’ প্রসঙ্গত, আসামে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু হয় ১৭৮০ সালে। রাজ্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, ‘আসামের মাদ্রাসা শিক্ষা আন্তর্জাতিক স্তরেও স্বীকৃতি পেয়েছে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতীক হিসাবে। এমনকি পাকিস্তানে মাদ্রাসাগুলিতে যেভাবে কট্টর ইসলামি শিক্ষা দেওয়া হয়, তাদেরও আসামের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শেখা উচিত।’

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আরও লিখেছে যে ‘২০০৯ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে শিক্ষার উঁচু মানের কারণে অ-মুসলিম ছাত্রছাত্রীরা বড় সংখ্যায় মাদ্রাসায় পড়তে আসছে।’ কিন্তু তারপরও বুলডোজার দিয়ে মাদ্রাসা ভেঙে দেওয়ার ঘটনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্তরে উঠছে সমালোচনার ঝড়।

জানা গিয়েছে যে, বৃহস্পতিবার আসামের মইরাবাড়ির মরিগাঁও এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে একটি মাদ্রাসা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জামিউল হুদা মাদ্রাসাটি মুফতি মোস্তফা দ্বারা পরিচালিত ছিল, যে সম্প্রতি বাংলাদেশ ভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং একিউআইএস-এর সাথে তার সংযোগের জন্য গ্রেফতার হয়েছে।

পুলিশ আধিকারিক অপর্ণা এন জানিয়েছেন, মরিগাঁওয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন এবং ইউএপিএ আইনের অধীনে জামিউল হুদা মাদ্রাসা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই মাদ্রাসায় ৪৩ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়ন করত, বর্তমানে বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে তাদের।

Related Articles