টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গভারত

নিষেধাজ্ঞার কারণে রেহাই, মে মাসে প্রথম সবথেকে কম সংক্রমণ, আশার আলো দেখছে ভারত

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভারতে রীতিমত ভয়ঙ্কর আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সুনামি। প্রথম ঢেউকে কোনভাবে সামাল দেওয়া গেলেও দ্বিতীয় ঢেউ রীতিমতো মাথাব্যথা বাড়িয়েছে প্রশাসনের। একদিকে যেমন রোজি আক্রান্ত হচ্ছেন কয়েক লক্ষ মানুষ, তেমনি সারাদিনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন প্রায় কয়েক হাজার। শুধু তাই নয়, চিন্তা বেড়েছে চিকিৎসা ক্ষেত্রে সরঞ্জাম, শয্যার অভাব তথা প্রাণবায়ু অক্সিজেনকে কেন্দ্র করেও। তবে এরই মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবর বয়ে আনলো গত ২৪ ঘন্টার সংক্রমণের সংখ্যা। ইতিমধ্যেই রাজ্যে রাজ্যে কোভিডের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য নিজেদের মতো করে গাইডলাইন ঠিক করেছে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলি। তারই কিছুটা প্রভাব পরল সংক্রমনের সংখ্যাতেও। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লক্ষ ২৩ হাজার ১২৩ জন মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৩৮৭৯ জন মানুষের। গত কয়েক দিনের রিপোর্টের ভিত্তিতে যা সবচেয়ে কম। ১৩ মে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ২৮৮ জন মানুষ। মৃত্যু হয়েছিল ৩৯৯৯ জনের। গত ১২ মে নতুন পড়ে কোভিড আক্রান্ত হন ৩ লক্ষ ৬২ হাজার ৪০৬ জন মানুষ। মৃত্যু হয়েছিল ৪১২৬ জনের। ১১ মে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার ৫২৯ জন মানুষ। মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ৪২০০ জনের। এ মাসের শুরু থেকে গত কয়েকদিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন ৬ মে। এদিন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪ লক্ষ ১৪ হাজার ৪৩৩।

তবে কয়েকদিনের সংখ্যাতত্ত্বের হিসেবের মধ্যে সবচেয়ে কম মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন গত ২৪ ঘন্টায়। যদিও একদিন পরেই এই সংখ্যা লাফিয়ে অনেকখানি বেড়ে যাওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে। গত ১০ মে নতুন করে কোভিড আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫১৭ জন। তখনো পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা নিরিখে এটিই ছিল সবচেয়ে কম। কিন্তু চিন্তা বাড়িয়ে পরের দিনই আক্রান্ত হন ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার ৫২৯ জন মানুষ। তাই সাবধানতা অবলম্বনের যে কোনো বিকল্প নেই তা বলাই বাহুল্য। তবে ভারতের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তির খবর হল, ভারতে সুস্থতার গড়ও যথেষ্ট বেড়েছে, ইতিমধ্যেই করোনাকে হারিয়ে ঘরে ফিরেছেন প্রায় দুই কোটিরও বেশি মানুষ। তবে আশঙ্কা বাড়িয়ে মৃত্যু হয়েছে ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ২২৯ জন মানুষের। এই মুহূর্তে ভারতে মোট অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ৩,৬৭৯৬৯১।

ইতিমধ্যেই করোনা ভাইরাসকে বেশ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ, রাজস্থান, দিল্লি, হরিয়ানা, বিহার, গুজরাত, ছত্রিশগড়, মধ্য প্রদেশ, উত্তরাখন্ড , ঝাড়খণ্ড, তেলঙ্গানা, জম্মু, গোয়া, চন্ডিগড়, লাদাখের মত মোট ১৮ টি রাজ্য। তবে এখনো চিন্তার কারণ যথেষ্ট রয়েছে কেরল, তামিলনাডু, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, পাঞ্জাব, ওডিশা, হিমাচল প্রদেশ, পুদুচেরির মত রাজ্যগুলিতে। চিন্তা বাড়ছে আমাদেরই রাজ্য পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র করেও। গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৮৪৬ জন । সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্যে মােট করােনা আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১১ লক্ষের কাছাকাছি মানুষ। রাজ্যে গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে ১৩৬ জন মানুষের। তাই দেশে করোনা সংক্রমণ কিছুটা স্বস্তি আনলেও রাজ্যের ক্ষেত্রে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার জো নেই সাধারণ মানুষের। এই মুহূর্তে কঠোরভাবে কোভিড বিধি পালনই হতে পারে বাঁচার একমাত্র উপায়।

Related Articles

Back to top button