টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গ

শীতলকুচি যাচ্ছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর, দেখা করবেন কোচবিহারের আক্রান্তদের সঙ্গেও

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই ভোট-পরবর্তী হিংসায় রীতিমতো উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত। প্রাণ হারান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় কুড়ি জন সক্রিয় কর্মী। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে প্রথম দিন থেকেই যথেষ্ঠ সরব ছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। একদিকে যেমন রাজ্যের কাছে প্রতিটি হিংসার ঘটনা রিপোর্ট তলব করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তেমনি অন্যদিকে শুরুর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বারবার সচেতন করে এসেছেন রাজ্যপাল। এমনকি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিনেও, মমতাকে নিজের বোন বলে সম্বোধন করে রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরামর্শ দেন তিনি।

শুধু তাই নয়, বাংলার নয়া মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের দিনেও সংবাদ মাধ্যমের সামনে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব হন তিনি। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, সারা বিশ্ব থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। জানতে চাওয়া হচ্ছে বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে। শুধু তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার আর্জি জানিয়ে কোন লাভ হয়নি বলেও এদিন জানিয়েছিলেন রাজ্যপাল। আর তারপরেই এবার মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টুইট করে তিনি জানালেন, বিএসএফের সহায়তায় মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে ১৩ মে শীতলকুচি যাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি কোচবিহারের অন্যান্য আক্রান্তদের সঙ্গেও কথা বলবেন তিনি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন রীতিমতো অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় কোচবিহারের শীতলকুচিতে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকার ১২৬ নম্বর বুথ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সিআইএসএফ গুলি চালালে নিহত হন চারজন। ওইদিনই শীতলকুচি অন্য একটি বুথে অশান্তির জেরে নিহত হন আরো একজন। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে এর আগেই রাজ্যপালের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে রিপোর্ট তলব করা তেমন কোনো লাভ হয়নি বলেই এই সিদ্ধান্ত।

অবশ্য শীতলকুচি ঘটনার ক্ষেত্রে তৎপরতার সঙ্গেই কাজ করছে রাজ্য প্রশাসন। কোচবিহারের মাথাভাঙার এসডিপিও সুরজিৎ মন্ডলকে ইতিমধ্যেই ডেকে পাঠিয়েছে সিআইডি। ডেকে পাঠানো হয়েছে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গোবিন্দ দাসকেও। একইসঙ্গে সোমবার মাথাভাঙ্গা থানার আইসি বিশ্বেশর সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর কোচবিহার জেলার প্রাক্তন পুলিশ সুপার দেবাশীষ ধরকেও তলব করার কথা ভাবছেন তারা। এই মুহূর্তে রাজ্যপালের শীতলকুচি সফর যে নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ তা বলাই বাহুল্য।

Related Articles

Back to top button