টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গকলকাতা

‘দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করুন”, এজলাসে বসে জেলা জজকে ফোন করে আবেদন বিচারপতি গাঙ্গুলির

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিগত কিছুমাস ধরে বঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে সর্বাধিক চর্চিত নামগুলির মধ্যে একটি কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Abhijit Ganguly)। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে একাধিক জটিল মামলায় নিজের কড়া নির্দেশ, রায়ের দ্বারা মন জয় করে নিয়েছেন সকলের। এদিন ঠিক এমনই এক মামলার শুনানি চলছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সেখানেই হুলুস্থূল কাণ্ড। এজলাসে মামলা চলাকালীনই হঠাৎ পকেট থেকে ফোন বের করে ডায়াল করলেন নাম্বার। তারপর?

এজলাস চলাকালীন বিচারপতির কানে ফোন দেখে বিস্মিত সকলে। নিশ্চুপ গোটা এজলাস। কাকে ফোন করছেন বিচারপতি? তারপর কিছুক্ষন পর ওপারের মানুষের সাথে কথোপকথনে বোঝা গেল, পূর্ব মেদিনীপুরের (East Medinipur) জেলা জজকে (District Judge) ফোন করেছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। ফোনে জেলা জজকে, নিম্ন আদালতে ঝুলে থাকা একটি নির্দিষ্ট মামলার ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তির আবেদন জানান।

ঠিক কোন মামলার নিষ্পত্তি চাইলেন বিচারপতি? প্রায় দুবছর আগে ২০২০ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের এক স্কুল শিক্ষিকার মৃত্যু হয়। সেই শিক্ষিকার মৃত্যুর আগেই তাঁর স্বামী বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন। অন্যদিকে শিক্ষিকা নিজের এক ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন সেই সময়ে। তবে হঠাৎ শিক্ষিকার মৃত্যুর পর তাঁর ১৫ বছরের ছেলে দাদু-দিদার কাছেই থাকতেন। জেলা আদালতে দাদু আবেদন জানায়, নাবালক নাতিকে যেন তাদের কাছেই থাকতে দেওয়া হয়। যাতে বিবাহ বিচ্ছেদ মামলায় যেন নাতিকে তাঁর নাতিকে জামাই না কেড়ে নিতে পারে।

অন্যদিকে, শিক্ষিক মৃত্যুর পর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দমে গেলেও দাঁড়ায় ওই মহিলার চাকরি জীবনের টাকা, পিএফ, গ্র্যাচুয়িটি এগুলো কে পাবে? সেই নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। এর জেরেই নাতি যাতে মায়ের অবর্তমানে তাঁর টাকাপয়সা পায় সেই আবেদন জানিয়েই হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন দাদু। বুধবার সেই মামলার শুনানি ছিল কলকাতা হাইকোর্টে।

justice ganguly

সেই মামলাতেই এদিন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, বিবাহ বিচ্ছেদ মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী কোনো নির্দেশ তিঁনি দিতে পারবেন না। সেবিষয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে। তাই আগে যাতে সে মামলার নিস্পত্তি হয় সেজন্য জেলা জজকে ফোন করেন বিচারপতি। প্রসঙ্গত, পূর্বে বহুবার বিচারপতি বহু মামলায় সাক্ষী বা অভিযুক্তকে কিছু ঘন্টার মধ্যেই আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। তবে এভাবে এজলাসে বসেই জজকে ফোন করার ঘটনা একেবারেই নজিরবিহীন।

Related Articles