টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

মুকুলের জায়গায় কে হবেন PAC চেয়ারম্যান? নাম চূড়ান্ত হল বিধানসভায়! ফের সংঘাতের ইঙ্গিত

বাংলাহান্ট ডেস্ক : পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদে ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন মুকুল রায়। ইস্তফা গ্রহণের দিনেই ঘোষণা হলো পরবর্তী পিএসি চেয়ারম্যানের নাম। সূত্রে খবর রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীর নাম চূড়ান্ত করেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। তবে সরকারিভাবে মঙ্গলবার কৃষ্ণর নাম বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেননি বলেই জানা যাচ্ছে।

মাস্টারস্ট্রোক তৃণমূলের

পিএসি চেয়ারম্যান পদ থেকে মুকুল রায় ইস্তফা দেওয়ার পরেই কে হবেন পরের চেয়ারম্যান তা নিয়ে তুমুল তর্জা শুরু হয়ে যায়। নতুন করে পিএসি প্রার্থী নিয়ে তৎপরতা দেখা যায় বঙ্গ বিজেপি শিবিরেও। কিন্তু এবারেও মাস্টারস্ট্রোক তৃণমূলের। জানা যাচ্ছে, মুকুল রায়ের মতোই বিজেপির টিকিটে নির্বাচন জেতেন। কিন্তু পরে দলীয় নেতাদের উপরই অনাস্থা প্রকাশ করেন এবং যোগ দেন সবুজ শিবিরে। বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া কৃষ্ণ কল্যাণীর নাম পিএসি চেয়ারম্যান পদে চূড়ান্ত করে আবারও গেরুয়া শিবিরকে চাপে ফেলে দিল তৃণমূল। জানা যাচ্ছে, বিজেপি নেতাদের সঙ্গে মতানৈক হওয়ায় ২০২১ সালের ১ অক্টোবর গেরুয়া শিবির ছাড়েন তিনি। এর মাত্র ২৬ দিনের মধ্যেই ২৭ অক্টোবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে যোগ দেন রায়গঞ্জের বিধায়ক। যদিও মুকুল রায়ের মতোই সরকারিভাবে এখনও তিনি বিজেপির বিধায়ক।

কী নিয়ে বিতর্ক?

ভারতীয় সংবিধানের ১১৫ নম্বর ধারায় কোথাও নির্দিষ্ট করে বলা নেই যে বিরোধী শিবিরের বিধায়ককেই লোকসভা বা বিধানসভায় পিএসি চেয়ারম্যান পদের জন্য নির্বাচন করতে হবে। এমনকী এটাও বলা নেই যে এই পদ শাসকদল নিজেদের পছন্দের কাউকে কোনও ভাবেই দিতে পারবে না। সংবিধানের এই ফাঁকটাই কাজে লাগিয়েছে তৃণমূল। প্রথমে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পরে বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফেরত আসা মুকুল রায়কে পিএসি’র চেয়ারম্যান করা হয়। কারণ মুকুল তৃণমূলে ফিরে এলেও খাতায়কলমে তিনি বিজেপিরই বিধায়ক ছিলেন। পরিষদীয় আইনেও কোথাও নির্দিষ্ট করে লেখা নেই যে বিধানসভায় পিএসি চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে হবে শুধুমাত্র বিরোধী শিবির থেকেই। এমনকি কোথাও এটাও বলা হয়নি যে এই পদটি বিধানসভার শাসকদল নিজেদের কাউকে দিতে পারবে না।

পরিষদীয় নিয়মের এই ফাঁক ব্যবহার করেই পিএসি চেয়ারম্যান পদের জন্য মনোনীত হলেন কৃষ্ণ কল্যাণী। মুকুল রায়ের মতো সেই একই প্রেক্ষাপট ফিরে এলো আবারও। কৃষ্ণকল্যানীকে ঘিরে যে বিজেপি নতুন করে লড়াইয়ের জন্য কোমর বাঁধবে তা বলাই যায়। জানা যাচ্ছে আইনি লড়াইয়ের দিকেও ইঙ্গিত দিচ্ছে গেরুয়া শিবিরের তোরজোড়। তবে মুকুল রায়ের মতো আবারও বিজেপির যাবতীয় প্রচেষ্টা নিষ্ফল হয় কিনা সেটাই দেখার।

Related Articles

Back to top button