টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

বৈশাখী দেখতে ভালো, সাজেও ভালো, আমি দেখি! শোভনের বান্ধবীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ কুণাল ঘোষ

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বদলেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। দুদিন আগের ‘শত্রুপক্ষ’ এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে বন্ধু আর এবার সেই ‘বিশেষ’ বন্ধুকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। কয়েকদিন পূর্বে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে একের পর এক কটাক্ষ ছুঁড়ে দিতেন তৃণমূল নেতা আর এবার সেই শোভন-বৈশাখীকে উদ্দেশ্য করেই কুণাল ঘোষের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো প্রশংসাসূচক বাক্য! এমনকি তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, “শোভন কিংবা বৈশাখীর সঙ্গে আমার কোনো রকমের ঝামেলা নেই।”

উল্লেখ্য, গত বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার উদ্দেশ্যে নবান্নে রওনা দেন শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। একপ্রস্থ কথা হওয়ার পর শোভন-বৈশাখীর তরফ থেকে ‘অভিমানের প্রাচীর ভেঙে গিয়েছে’ বলে দাবি পর্যন্ত করা হয়। এই সকল ঘটনা সামনে উঠে আসার পরেই যখন তাদের তৃণমূলের ফেরার সম্ভাবনা ক্রমশ উজ্জ্বল হয়ে চলেছে, সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে কুণালবাবু বললেন, “বৈশাখীকে দেখতে ভালো। ভালো সাজেন। আমার বেশ ভালই লাগে। তাছাড়া আমার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো।”

কুণাল ঘোষের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শোভন-বৈশাখীর ঘাসফুল শিবিরে যোগদান করার জল্পনা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অতীতে যাদের একের পর এক কটাক্ষ-বাণে বিদ্ধ করেছিলেন, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে বিজেপিতে চলে যাওয়া সেই ‘যুগল’-কে ক্ষমা করতে পারবেন? এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা বলেন, “শোভন-বৈশাখীর ব্যাপারটা একান্তই দলের। তাছাড়া গত বিধানসভা নির্বাচনে এমন অনেকেই রয়েছে, যারা বিজেপিতে চলে গিয়েছিলেন। তারা যদি এবার ফিরে আসতে চায়, সেটা ভালো কথা। শোভন এবং বৈশাখীর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে কোন সমস্যা নেই। ওরা দলের বিরুদ্ধে ছিল বলেই আমি কটাক্ষ করেছিলাম। তবে সেটা কখনোই ব্যক্তিগত দিক থেকে শত্রুতা ছিল না।”

প্রসঙ্গত, 2019 সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে পদ্মফুল শিবিরে যোগদান করেন শোভন ও বৈশাখী। গত বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে তাঁরা তৃণমূল দল ত্যাগ করেন আর এরপর থেকেই তাদেরকে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকেন কুণাল ঘোষ। তবে নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পর কুণালবাবুর এই ভোলবদল রাজনীতিতে ‘প্রাসঙ্গিক’ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Articles

Back to top button