টাইমলাইনভারত

সিয়াচেনে মিলল ল্যান্স নায়েক চন্দ্রশেখরের মরদেহ, ৩৮ বছর আগে হিমবাহ ভেঙে পড়ায় হয়েছিলেন শহীদ

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ৩৮ বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন তিনি! কিন্তু, এবার খোঁজ মিলল তাঁর নশ্বর দেহের। জানা গিয়েছে, সিয়াচেন নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলা সংঘর্ষের মধ্যে কর্তব্যরত অবস্থায় থাকা ১৯ কুমায়ুন রেজিমেন্টের ল্যান্স নায়েক চন্দ্রশেখর হারবোলার মৃতদেহ ৩৮ বছর পর সিয়াচেনে পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারকেও এই তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়াও, সোমবার তাঁর মৃতদেহ হলদওয়ানিতে নিয়ে আসা হবে বলে খবর মিলেছে। তারপর পূর্ণ মর্যাদায় ওই বীর শহীদের অন্তিম সংস্কার করা হবে।

খবর অনুযায়ী, আলমোড়া জেলার দ্বারাহাটের হাতিগুরের বিনতার বাসিন্দা ছিলেন চন্দ্রশেখর হারবোলা। তিনি ১৯৭৫ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এমতাবস্থায়, ১৯৮৪ সালে, সিয়াচেনকে নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হয়। পাশাপাশি, ভারত এই মিশনের নাম দেয় “অপারেশন মেঘদূত”।

এদিকে, ১৯৮৪ সালের মে মাসে, সিয়াচেনে টহল দেওয়ার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে ২০ জন সৈন্যের একটি দল পাঠানো হয়েছিল। সেই দলটিতে ল্যান্স নায়ক চন্দ্রশেখর হারবোলাও ছিলেন। ঠিক সেই সময়েই সিয়াচেনে হিমবাহ ভেঙ্গে পড়ায় সমস্ত সেনারা বিরাট বিপদের সম্মুখীন হন। এমনকি, ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে তাঁদের জীবিত থাকার সম্ভাবনাও ছিল না।

এমতাবস্থায়, সেনাদের খুঁজে বের করার জন্য ভারত সরকার এবং সেনাবাহিনী একটি অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করে। যার ফলে মোট ১৫ জন সেনার মৃতদেহ পাওয়া গেলেও বাকি পাঁচ সেনার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিকে গত রবিবার, রানিক্ষেতে অবস্থিত সৈনিক গ্রুপ সেন্টার থেকে শহীদ চন্দ্রশেখর হারবোলার পরিবারের কাছে তথ্য পাঠানো হয়েছিল যে সিয়াচেনে চন্দ্রশেখরের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, তাঁর সঙ্গে আরও এক সেনার মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলেও জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চন্দ্রশেখরের স্ত্রী বীরাঙ্গনা শান্তি দেবী বর্তমানে হলদওয়ানির ধান মিলের কাছে সরস্বতী বিহার কলোনিতে থাকেন। রবিবার তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান এসডিএম মণীশ কুমার ও তহসিলদার সঞ্জয় কুমার। তাঁরা ওই পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের সাহায্যের আশ্বাস দেন।

এই ২০ জন সেনা দুর্ঘটনার শিকার হন:
১. পিএস পুন্ডির, জেলা-এলাহাবাদ।
২. মতি সিং, জেলা-পিথোরাগড়।
৩. গোবিন্দ বল্লভ, জেলা-আলমোড়া।
৪. ভগবত সিং, জেলা-আলমোড়া।
৫. দয়াকিশান, জেলা-নৈনিতাল।
৬. রাম সিং, জেলা-নৈনিতাল।
৭. চন্দ্র শেখর হারবোলা, জেলা-আলমোড়া।
৮. চন্দ্রশেখর, জেলা-পিথোরাগড়।
৯. জগৎ সিং, জেলা-পিথোরাগড়।
১০. গঙ্গা সিং, জেলা-আলমোড়া।
১১. মহেন্দ্র পাল সিং, জেলা-পিথোরাগড়।
১২. জগৎ সিং, জেলা-পিথোরাগড়।
১৩. হায়াত সিং, জেলা-পিথোরাগড়।
১৪. ভূপাল সিং, জেলা-পিথোরাগড়।
১৫. নরেন্দ্র সিং, জেলা-পিথোরাগড়।
১৬. রাজেন্দ্র সিং, জেলা-আলমোড়া।
১৭. ভীম সিং, জেলা-পিথোরাগড়।
১৮. মোহন সিং ভান্ডারী, জেলা-আলমোড়া।
১৯.পুষ্কর সিং, জেলা-পিথোরাগড়।
২০. জগদীশ চন্দ্র, জেলা-পিথোরাগড়।

এদিকে, এই প্রসঙ্গে হলদওয়ানির এসডিএম মনীশ কুমার সিং জানিয়েছেন যে, ৩৮ বছর পর সিয়াচেনে শহিদ সেনার নশ্বর দেহের খোঁজ মিলেছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, ওই শহিদের রাষ্ট্রীয় সম্মানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত ধরণের ভূমিকা পালন করা হবে। এছাড়াও, প্রশাসন ওই পরিবারের সঙ্গে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান তিনি।

Related Articles