টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গ

শুধুই মিলেছে প্রতিশ্রুতি, এরকম চললে ভোটের আশা ত‍্যাগ করুন’, মমতা সরকারকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের হুশিয়ারি

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কথা দিয়েও কথা রাখেননি, মেলেনি বেসরকারি মাদ্রাসার (Madrasa) সরকারি অনুমোদন। এই কারণে মঙ্গলবার ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভর ডাক দিয়েছিল রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষকরা। মুখ্যমন্ত্রীর থেকে পাকা কথা আদায় করেই ফিরবে, এই ছিল তাদের পন্থা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তো দূরস্তর, অবস্থান বিক্ষোভ শুরুর আগেই পুলিশ বাধ সাধল।

প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি অভিযোগ
বাংলায় মমতা সরকার ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার প‍র দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মধ্যে একটি ছিল ১০ হাজার বেসরকারি মাদ্রাসাকে সরকারি অনুমোদন করা হবে‌। তাদের অভিযোগ, কিন্তু প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ৯ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও, প্রতিশ্রুতি পূরণের কোন লক্ষণই দেখতে পাচ্ছেন না মাদ্রাসা শিক্ষকরা।

মিলেছে শুধু প্রতিশ্রুতির উপর আবারও প্রতিশ্রুতি
নিজেদের অধিকার আদায়ের উদ্দেশ্যে সেই ২০১২ সাল থেকে বহুবার তারা নানা জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেও আদতে কোন সুরাহা হয়নি। বিক্ষোভ, অবস্থান, অনশন প্রদর্শন করলেও, শুধু প্রতিশ্রুতির উপর আবারও মিলেছে প্রতিশ্রুতি। লাভের লাভ কিছুই হয়নি। তাই আবারও তারা মঙ্গলবার তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি নিয়ে ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভর ডাক দিয়েছিলেন।

গ্রেপ্তার হয় মাদ্রাসা শিক্ষকরা
রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষকদের এই অবস্থান বিক্ষোভের পরিকল্পনার কথা আগে থেকেই জানতে পারে প্রশাসন। ওয়েস্ট বেঙ্গল রেকগনাইজড আন-এডেড মাদ্রাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা এই সভায় যোগদান করার পূর্বেই পুলিশের হাতে পাকড়াও হন শতাধিক মাদ্রাসা শিক্ষক। সকাল থেকেই সেখানে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সেই সঙ্গে আশেপাশের এলাকায় কোথাও কোনো জমায়েতে অবস্থানে যোগ দেওয়ার কথা শুনলেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তৎপরতায় অবস্থানের আগেই ভন্ডুল হয়ে যায় এই প্রতিবাদী বিক্ষোভ।

ক্ষোভ ওগড়ালেন এক সদস্য
মঙ্গলবারের কর্মসূচির বিষয়ে আন-এডেড মাদ্রাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে কাজি মিরাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ‘মমতা দিদি ভালো করেই জানেন আমাদের দাবি-দাওয়া কি আছে। এটা তো আর আজকের বিষয় নয়। এ ঘটনা দিদি আসার সময় থেকেই। দিদি বলেছিলেন, দশ হাজার প্রতিষ্ঠান দেব। তাঁর কথায় বিশ্বাস করেই আমরা তাকে মুখ্যমন্ত্রী বানালাম। কিন্তু সুযোগ সুবিধার প্রতিশ্রুতি কোথায় গেল? ১০ হাজার তো অনেক দূরের কথা, অনেক অনুনয় বিনয় করে মাত্র ২৩৫ টি মাদ্রাসা দিয়েছেন মাত্র। এগুলো একদমই ঠিক করছেন না দিদি। এরকম চলতে থাকলে, আগামী নির্বাচনে আমাদের থেকে ভোটের আশা ত‍্যাগ করতে পারেন দিদি’।

Back to top button