টাইমলাইনভারতরাজনীতি

আগামীকালই মহারাষ্ট্রে আস্থাভোট? রাজ্যপালের নির্দেশ ঘিরে জল্পনা!

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মহারাষ্ট্রে কি ক্ষমতা হারানোর পথে শিবসেনা? বর্তমানে সেই ইঙ্গিত মিলেছে বারংবার আর এবার বানিজ্যনগরীর বুক থেকে উঠে আসা এক চাঞ্চল্যকর খবর সেই ইঙ্গিতকেই কয়েকগুণে বৃদ্ধি করলো। রাজভবন সূত্রের এক খবর অনুযায়ী জানা যাচ্ছে যে, আগামীকাল মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে বিধানসভায় একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে রাজ্যপাল দ্বারা এই নির্দেশ দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো ‘আস্থাভোট’। ফলে মহারাষ্ট্রে সংকটজনক পরিস্থিতি মাঝে আস্থাভোট কি শেষ উপায় হতে চলেছে, এই নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন উঠে গিয়েছে।

বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই ক্ষমতা ধরে রাখতে তৎপর হয়ে উঠেছে শিবসেনা। এক্ষেত্রে তাদের বিদ্রোহী নেতা একনাথ শিন্ডে সহ আরো বহুসংখ্যক বিধায়ক শিবসেনা ছেড়ে নতুন দল গড়ার কথা ঘোষণা করলে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। এর মাঝেই খবর মিলতে থাকে যে, শিবসেনার বিদ্রোহী নেতা শিন্ডে সহ অন্যান্য বিধায়করা সম্ভবত বিজেপিতে যোগদান করতে চলেছেন। বিজেপিশাসিত গুজরাট এবং পরবর্তীতে অসমে তাদের পৌঁছে যাওয়া নিয়ে সেই সম্ভাবনা আরো প্রকট হয়ে ওঠে। বিগত কয়েকদিনে বিজেপিও অবশ্য চেষ্টার কোনো খামতি রাখেনি।

বাণিজ্যনগরীর ক্ষমতা দখল করার জন্য একনাথ শিন্ডের সঙ্গে বৈঠক করেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। এর মাঝেই গতকাল অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন ফড়নবিশ এবং রাতের দিকে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এরপরেই সূত্র মারফত খবর মিলেছে যে, আগামীকাল মহারাষ্ট্র সরকারকে বিধানসভায় একটি অধিবেশন ডেকে আস্থাভোট করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল। এই খবরটি জানাজানি হওয়ার পরেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে। শুধু তাই নয়, আগামীকাল সকাল 11 টার সময় বৈঠক ডাকার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীকে উপস্থিত থাকতে বলেছেন রাজ্যপাল এবং একইসঙ্গে সমস্ত ঘটনার রেকর্ড করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বলেন, “বর্তমানে শিবসেনা ছেড়ে 39 জন বিধায়ক বেরিয়ে গিয়েছেন। একইসঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন নির্দল নেতারাও একই পথ অবলম্বন করেছে। ফলে বর্তমানে রাজ্য চালানোর জন্য যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হয়, তা নেই শিবসেনার। সেই কারণেই আমি রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করি, কারণ এখন রাজ্যে আস্থা ভোট দরকার।”

যদিও বর্তমানে রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এক্ষেত্রে 21 দিনের নোটিশ ছাড়া কি করে বিশেষ অধিবেশন ডাকা যায়, তা নিয়ে জল্পনা দেখা গিয়েছে। অতীতে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটকেও একইভাবে আস্থাভোটের নির্দেশ দেন সেখানকার রাজ্যপাল। বর্তমানে মহারাষ্ট্রেও কি ঘটতে চলেছে একই ঘটনা? এক্ষেত্রে অবশ্য সকলের নজর উদ্ধব ঠাকরে উপর।

Related Articles

Back to top button