টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

আমার বাড়ির পরিচারিকারও দোতলা বাড়ি! অট্টালিকা হাঁকানো প্রধানদের পাশে দাঁড়িয়ে বার্তা নেত্রীর

বাংলাহান্ট ডেস্ক : শাসকদলের একেবারে তৃণমূল স্তরের নেতা থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের সম্পত্তির পরিমাণ দেখলে রীতিমতো ঈর্ষা জাগবে দেশের বিখ্যাত ধনী ব্যক্তিদেরও। ঘাসফুল শিবিরের ছোট-বড় বহু নেতারই রয়েছে মার্বেলে মোড়া প্রাসাদ আবার কারোর কারোর গ্যারেজে রয়েছে বহু মূল্যবান গাড়ি। আয় ব্যায়ের নিরিখে আর্থিক সম্পত্তির হিসেব দিতে বহুবারই বিপাকে পড়তে হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের। এমনকি, নেতা-মন্ত্রীদের পাশাপাশি তাদের গাড়ির চালক থেকে শুরু করে দেহরক্ষীদের সম্পত্তির হিসেব দেখেও চোখ কপালে উঠেছে গোয়েন্দাদের। এবার সেই সব সম্পদশালী ব্যক্তিদের হয়েই সাফাই গাইতে দেখা গেল স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমোকে। পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, নেতাদের বড় গাড়ি বাড়ি থাকতেই পারে তাতে তো অন্যায়ের কিছু নেই। শুধু তাই নয় তার নিজের পরিচারিকার দোতলা বাড়ি আছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানের সভায় হাজির হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোন পঞ্চায়েত প্রধানের বড় বাড়ি রয়েছে, তা নিয়ে চর্চা হয়, কিন্তু পঞ্চায়েত প্রধান যখন দিনমজুরের কাজ করে, ক্ষেত মজুরের কাজ করে, তা নিয়ে কেউই আলোচনা করে না”। তার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরো জানান, আগে একটা সময় গ্রামের দিকের মানুষের শুধু মাটির বাড়িই থাকত। এখন সেখানে কোথাও মানুষ পাকা বাড়ি তৈরি করতে পাচ্ছে, আবার কোথাও সরকারের সাহায্যের টাকায় বাড়ি তৈরি হচ্ছে। এছাড়া, কোন ব্যক্তি তার চাকরির টাকা জমিয়ে বাড়ি তৈরি করলে তাকে যেমন দুর্নীতিগ্রস্ত বলাটা একেবারেই উচিত না, ঠিক তেমনভাবে কোন পঞ্চায়েত প্রধানের সুবিশাল বাড়ি থাকলেও সেটা অন্যায় নয় বলেই তিনি দাবি করেছেন।

আর্থিক দিক থেকে সচ্ছল দলীয় কর্মীদের পাশে থাকার পাশাপাশি দলের সব স্তরের নেতা-নেত্রীদেরও স্বচ্ছ হবার বার্তা দিয়েছেন তিনি। তার কথায়, “দলের সব লোক খারাপ নয়। দু একজন লোভী মানুষ থাকতে পারে, তাদের বিরুদ্ধেই আমার লড়াই। আমি পঞ্চায়েতে এমন কর্মী চাই যিনি মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।” ঘাসফুল শিবিরের সকলের উদ্দেশ্যে বারবার করে মানুষের পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি আবারো বলেন, “মানুষ তো আজ আছে, কাল নেই” । তাই যতদিন সময় থাকবে হাতে, মানুষের জন্য কাজ করাই সবচেয়ে উপযুক্ত বলেই বার্তা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

Related Articles

Back to top button