টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

চারদিনের দিল্লি সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই তিনবারের সাক্ষাৎ মুখ্যমন্ত্রীর, অথচ অনুপস্থিত বিরোধী বৈঠকে

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গত ১৪ ই জুন রওনা দিয়েছিলেন রাজধানীতে আর তারপর দুই মাসের কম সময়ে পুনরায় একবার দিল্লি (Delhi) পৌঁছে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তবে এই কয়েকদিনে বদলে গিয়েছে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। অতীতে রাজধানী উড়ে যাওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল বিরোধী ঐক্য আর এবার রাজধানী পৌঁছেও বিরোধীদের মুখোমুখি পর্যন্ত হলেন না মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধীদের কটাক্ষ, “এসব কিছুই বিজেপি ও তৃণমূলের আঁতাত।” যদিও এখনো পর্যন্ত এ প্রসঙ্গে মুখ খোলেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দিল্লি সফরে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে ক্রমশই বেড়ে চলেছে জল্পনা। বলে রাখা ভালো, গত ১৪ই জুন দিল্লিতে পৌঁছে যাওয়ার পিছনে লক্ষ্য ছিল বিরোধী ঐক্যকে একসূত্রে আনা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেই সময় ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেশের পরিস্থিতি। সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ১৭ টি বিরোধী দলকে এক সূত্রে এনে বৈঠকের আয়োজন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পরবর্তী সময়ে বদলেছে চিত্র! রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেন্দ্র সরকারের চালে মাত খেয়েছে বিরোধী ঐক্য। শুধু তাই নয়, এর পরেই মহারাষ্ট্রে পতন হয়েছে শিবসেনা সরকারের এবং সেখানে সরকারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিজেপি জোট সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘটনাটি দেশের রাজনীতিতে বিশেষ উল্লেখযোগ্য বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুধু কি মহারাষ্ট্র, একদমই নয়। গত এক মাসে সম্পূর্ণরূপে বদলে গিয়েছে বাংলার রাজনীতি। বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ ভোটে জয়লাভ করলেও বর্তমানে একের পর এক দুর্নীতি মামলায় ক্রমশ অস্বস্তি বেড়ে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের। এসএসসি থেকে প্রাথমিক টেট দুর্নীতি মামলায় একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের নাম জড়ানোয় ব্যাকফুটে শাসক দল। এর মাঝেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে ইডি আর এর মাঝেই দিল্লিতে পৌঁছে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক তাই নজর এড়ায়নি বিরোধীদের।

বর্তমানে অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, “যেভাবে রাজ্যের বকেয়া টাকা এবং প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা ও ১০০ দিনের মতো প্রকল্পে রাজ্যের পাওনা মেটায়নি কেন্দ্র, সেই সকল বিষয় তুলে ধরার জন্যই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে পৌঁছে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।” তবে তাদের এ সকল দাবি উড়িয়ে দিয়েছে বিরোধী দলগুলি। বিশেষত সাম্প্রতিক সময়ে, তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকটি পদক্ষেপ বিরোধীদের দাবিকে আরো উস্কে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিনবার সাক্ষাৎ করতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল ৪৫ মিনিটের বৈঠকের পর এদিন ‘আজাদি কা অমৃত মহৎসব’ কর্মসূচিতে মুখোমুখি হতে চলেছেন মোদী-মমতা। এরপরে নীতি আয়োগ বৈঠকেও দেখা হওয়ার কথা রয়েছে দুজনের।

Modi mamata

শুধু তাই নয়, এবার আসা যাক উপরাষ্ট্রপতি ভোটের দিকে। অতীতে তৃণমূল কংগ্রেস পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না তৃণমূল কংগ্রেস। এক্ষেত্রে বিরোধীদের দ্বারা একাধিকবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি, রাজধানীতে বিরোধীদের নৈশ ভোজ্যের আয়োজনেও অনুপস্থিত থাকে তৃণমূল। ফলে স্বাভাবিকভাবে ক্রমশ চড়ছে পারদ। বিরোধীদের মতে, যেভাবে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং চাকরি দুর্নীতি মামলায় ক্রমশ চাপ বেড়ে চলেছে শাসকদলের, সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক আসলে তদন্তকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা মাত্র। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে এ দাবি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধীদের বৈঠক এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মমতার একের পর এক সাক্ষাৎ বলছে অন্য কথা। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনীতিতে তৃণমূল-বিজেপির সম্পর্ক কোন নয়া মোড় নিয়ে আসে, সেটাই দেখার।

Related Articles

Back to top button