টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

ডানা ছাঁটা শুরু! এবার পার্থর ব্যক্তিগত সচিব ও ওএসডিকে কম্পালসারি ওয়েটিংয়ে পাঠাল রাজ্য

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ এসএসসি (SSC) দুর্নীতি মামলায় গতকাল পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে (Arpita Mukherjee) ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একের পর এক সম্পত্তি এবং বেআইনি নথিপত্র উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় ক্রমশ অস্বস্তি বেড়ে চলেছে পার্থ-অর্পিতার। এর মাঝে সম্প্রতি মহাসচিব পদের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) দল থেকে বহিষ্কার করা হয় পার্থকে আর এবার প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গেও ক্রমশ দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করে দিল শাসকদল।

ইতিমধ্যেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সচিব সুকান্ত আচার্য এবং ওএসডি প্রবীর ব্যানার্জিকে কম্পালসারি ওয়েটিং-এ পাঠিয়ে দিল সরকার। উল্লেখ্য, সম্প্রতি পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে কোটি কোটি নগদ অর্থ এবং একাধিক সোনা উদ্ধার করে ইডি। পরবর্তীতে হেফাজতে নেওয়ার পাশাপাশি বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সম্পত্তির খোঁজ পাওয়াকে কেন্দ্র করে একের পর এক নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়ে চলেছে। এর মাঝেই দলের সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় পার্থকে। গতকাল এই মামলায় পার্থ-অর্পিতা দুজনকেই ১৪ দিনের জেলে হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত আর এরপরেই এদিন নবান্ন দ্বারা একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পার্থ ঘনিষ্ঠ দুই ডাব্লিউবিসিএস অফিসারকে কম্পালসারি ওয়েটিং-এ পাঠানোর সিদ্ধান্ত বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, এই সিদ্ধান্তটি মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে থাকা কর্মিবর্গ দপ্তর দ্বারা নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পার্থ চট্টোপাধ্যায় নাম এসএসসি মামলায় উঠে আসার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত সচিব এবং ওএসডি সুকান্ত আচার্য ও প্রবীর ব্যানার্জির নামও এই দুর্নীতি মামলায় ক্রমশ সামনে আসতে থাকে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর পার্থ চট্টোপাধ্যায় যখন শিক্ষামন্ত্রী হন, সেই সময় তাঁর ব্যক্তিগত সচিব পদে নিযুক্ত হন সুকান্ত। পরবর্তী সময়ে শিল্পমন্ত্রী থাকাকালীনও সেই একই পদে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। অপরদিকে, বহুদিন ধরেই প্রবীর ব্যানার্জি, পার্থর ওএসডি ছিলেন বলে খবর। বলে রাখা ভালো, দুর্নীতি মামলায় সম্প্রতি সুকান্ত আচার্যর বাড়িতেও হানা দেয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। ফলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করার পাশাপাশি বর্তমানে তাঁর ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তিকে কম্পালসারি ওয়েটিংয়ে পাঠানোর মাধ্যমে সরকার নিজেদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতে চাইছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

Related Articles

Back to top button