পশ্চিমবঙ্গঅন্যান্য

কন্যাশ্রীর টাকায় মাস্ক বিলি করে রাজ্য সরকারের বিশেষ স্বীকৃতি ইন্দাসের ছাত্রীর ঝুলিতে

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ করোনা (Covid 19) সংক্রমণের জেরে বিগত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে নাজেহাল গোটা পৃথিবী। তবে এখন পরিস্থিতি আগের থেকে অনেকটা স্বাভাবিক, জ্বরাক্রান্ত কাটিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়ার পথে এগোচ্ছে পৃথিবী। কিন্তু পরিস্থিতি যেহেতু এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি তাই এখনও সকলের জন্যই প্রয়োজনীয় কোভিডবিধি মেনে চলা আবশ্যক। যার মধ্যে অন্যতম নিয়মিত মুখে মাস্ক পরা।

কিন্তু আমাদের রাজ্যে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যাঁরা শুধুমাত্র টাকার অভাবেই মাস্ক কিনতে পারছেন না। তাই মাস্ক ছাড়াই রাস্তাঘাটে বের হওয়ায় তাঁদের সাথেই প্রাণের ঝুঁকি বাড়ছে অনান্য সহ নাগরিকদের। তাই এই পরিস্থিতিতে নিজের কন্যাশ্রীর জমানো টাকা দিয়ে মাস্ক (Mask)কিনে দুস্থ মানুষের হাতে তুলে দিয়ে মানবিকতার এক অসামান্য নজির গড়েছেন বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের ছোট গোবিন্দপুর এস এন পাঁজা হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী পায়েল নন্দী (Payel Nandi) ।

আগামী ১৪ ই আগস্ট কন্যাশ্রী দিবস। আর এই বিশেষ দিনেই এমন দৃষ্টান্তমূলক কাজের স্বীকৃতি দিতে চলেছে রাজ্য সরকার। জানা গেছে ওই বিশেষ দিনেই পায়েলের হাতে তুলে দেওয়া হবে কন্যাশ্রী পুরস্কার (Kanyashree Award)। উল্লেখ্য এপ্রসঙ্গে বাঁকুড়ার কন্যাশ্রী প্রকল্পের আধিকারিক রঞ্জনা রায় জানিয়েছেন, ‘কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকায় মাস্ক বিলি ছাড়াও, করোনা কালে অন্যদের ছবি আঁকা শেখানো এবং জাতীয় মেধা অন্বেষণ পরীক্ষায় সফল হওয়ায় বাঁকুড়া জেলার তিন ছাত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

ছোটোবেলায় থেকেই চারপাশের অসহায়,দুস্থ মানুষদের প্রতি ভীষণ মায়া জন্মায় এই ছোট্ট একরত্তি মেয়েটার। তাই বরাবরই মানুষের দুঃখ থেকে দেখলে কষ্ট হত তাঁর। তাই বরাবরই তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সে। আর করোনা কালে অসংখ্য মানুষকে ছাড়া ঘুরে বেড়াতে দেখে তাঁদের প্রাণ সংশয়ের কথা ভাবিয়ে তোলে তাঁকে। তাই গত বছর মে মাসেই বাবার সাথে ব্যাঙ্কে গিয়ে কন্যাশ্রীর টাকা তুলে একশো দিনের কর্মী এবং দুস্থ মানুষদের মধ্যে বিলি করে সে।

পায়েলের বাবা সুজিত নন্দী পেশায় মাছচাষি। মা মধুমিতা নন্দী গৃহবধূ। এছাড়া পায়েলের বাড়িতে আছে তাঁর ছোটো ভাই। পায়েলের স্বপ্ন বড় হয়ে সে পুলিশ হবে। কারণ হিসাবে সে জানিয়েছে ‘‘মানুষ যখনই বিপদে পড়ে তখনই পুলিশ তাদের সাহায্যে এগিয়ে যায়। বন্যা, খরা, ভূমিকম্প সর্বোপরি চোখের সামনে ঘটে চলা অতিমারিতে পুলিশের ভূমিকা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমিও চাই মানুষের পাশে থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে । তাই আমার ইচ্ছে পুলিশ আধিকারিক হওয়ার।’’

রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এদিন এই বিশেষ সম্মান পাওয়ার কথা জানতে পেরে পায়েল জানিয়েছেন ‘কন্যাশ্রীর টাকায় আমি আমার আশপাশের কয়েক জন মানুষকে করোনার ছোবল থেকে বাঁচাতে পেরেছি এটাই আমার কাছে বড় পাওনা।’

Related Articles

Back to top button