টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গভারতরাজনীতি

মোদী সরকারকে একশো দিনের কাজ বাড়িয়ে দেড়শো দিন করার পরামর্শ নোবেলজয়ী অভিজিৎ-এর

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ করোনার মহামারীতে কাজ হারিয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। যার ফলে এখন রীতিমতো ধুঁকছে অর্থনীতি। প্রথম ঢেউয়ের পরেই মাইনাসে নেমে গিয়েছিল দেশের জিডিপি। মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত হয়ে পড়েছিলেন বহু মানুষ। দেশের অর্থনীতিকে ফের একবার ফিরিয়ে আনতে মানুষের হাতে প্রয়োজন টাকা, একথা প্রথম থেকেই বলে আসছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি এর আগেও বলেছেন, সরকার ততটা টাকা খরচ করছে না যতটা প্যান্ডেমিকে তার করা উচিত ছিল। অন্য কোন দেশ হলে এ সময় ভারতের দশগুণ টাকা খরচ করত। এদিন ফের একবার একই কথা ফিরিয়ে আনলেন অভিজিৎ। তিনি বলেন, “দরিদ্র মানুষের হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়া এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ। সরকারের উচিত মনরেগা প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ বাড়ানো। ১০০ দিনের কাজকে ১৫০ দিনের করা উচিত।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগে ১০০ দিনের কাজের দিন সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শুরু থেকেই এ বিষয়ে সরব অভিজিৎও। এদিন ফের একবার দরিদ্র মানুষের হাতে নগদ টাকা পৌঁছে না দিলে অর্থনীতির উন্নতি হবে না, তা স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

 

সাথে সাথে আমেরিকার মতো দেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে সপ্তাহে কাজ হারানো মানুষকে প্রায় ৬০০ ডলার দেওয়া হচ্ছে। এই মুহূর্তে অনেক বেশি টাকাও ছাপাচ্ছে তারা। যদিও নীতি আয়োগের চেয়ারম্যান রাজীব কুমারের মতে, এটি আসলে ভুল দৃষ্টিভঙ্গি। এভাবে সরাসরি টাকা পৌঁছে দিলে অর্থনীতির চাহিদা বাড়বে না। কিন্তু অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, মানুষকে শেষবার সাহায্য করা হচ্ছে তা জানতে পারলে মানুষ টাকা জমাতে শুরু করবে। যার ফলে বাজারে তা খরচ হবে না। ফলতো অর্থনীতি আরও ধুঁকতে শুরু করবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগেও ইউবিআই বা ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকামের স্বপক্ষে সওয়াল করেছেন এই নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবীদ। তার মতে অর্থনীতিকে বুষ্ট আপ করার জন্য দরকার চাহিদা তৈরি। চাহিদা তৈরি হলেই নির্মাণ ক্ষেত্র, শিল্পক্ষেত্র, হোটেল শিল্পে লোকজনের নিয়োগ আরও বাড়বে আর তাতেই ধীরে ধীরে লাইনচ্যুত হয়ে যাওয়া অর্থনীতিকে ফের একবার সঠিক লাইনে ফেরানো যাবে।

Related Articles

Back to top button