টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

তৃণমূলে যোগ দিয়ে বিজেপির বিধায়কপদ ছাড়তে পারেন মুকুল রায়, রাজ্যসভায় পাঠাতে পারেন মমতা

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বরিষ্ঠ নেতা তথা একসময় রাজনীতির চাণক্য মুকুল রায়ের ফের একবার দলবদল নিয়ে এই মুহূর্তে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ২০১৭ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন মুকুল রায়। চারবছর কাটতে না কাটতেই ফের একবার তার ‘ঘর ওয়াপাসির’ তত্ত্বে প্রায় সীলমোহর পড়তে চলেছে। গত কয়েকদিন ধরেই মুকুলের দলবদল নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। কারণ ধীরে ধীরে তার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল রাজ্য বিজেপির। শুধু তাই নয়, দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তার দ্বন্দ্বও সামনে এসেছে বারবার। প্রকাশ্যে সেভাবে মুখ না খুললেও এই অন্তর্দ্বন্দ্ব যে চলমান তা কমবেশি জানতেন সকলেই।

বিধানসভা নির্বাচনে দলের টিকিটে কৃষ্ণনগর আসন জিতলেও প্রচারে তার অনীহা ছিল স্পষ্ট। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সরাসরি সেভাবে আক্রমণ করতে দেখা যায়নি তাকে। ঘনিষ্ঠ মহলের অনেকের মতে ২০২০ সালেও দল ছাড়ার কথা মনস্থির করেছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু এরপর কেন্দ্রীয় নেতাদের কথায় শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণনগর আসন থেকে নির্বাচনে লড়েন তিনি। নিজে থেকে তেমনভাবে নির্বাচনে দাঁড়ানোর ইচ্ছে ছিলনা মুকুলের। অন্তত এমনটাই মত ঘনিষ্ঠমহলের। এরপর নির্বাচন শেষ হতে না হতেই ফের একবার সামনে এসেছিল মুকুলের দল পরিবর্তনের জল্পনা। তবে সে সময় তার সম্পূর্ণ উড়িয়ে তিনি যে দলেই থাকছেন তা জানিয়ে দিয়েছিলেন মুকুল।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিজেপিতে সেভাবে প্রাধান্য পাননি কৃষ্ণনগরের এই বর্তমান বিধায়ক। আর সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত। কিছুদিন আগেই ঘনিষ্ঠ অনুগামীদের নিয়ে একান্ত সল্টলেকের বাড়িতে বৈঠক করেছিলেন তিনি। মুকুল পন্থীদের মতে, সেখানেই তিনি জানান এই দলটা আর করা যাচ্ছে না। বিশেষত নির্বাচনের পর থেকে ক্রমশ আরও দূরত্ব বাড়তে শুরু করেছে মুকুল এবং বিজেপির মধ্যে। এমনকি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ডাকা বৈঠকেও অনুপস্থিত ছিলেন মুকুল। যার জেরেই ফের শুরু হয় জল্পনা।

মুকুলের ফুল বদল এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা। ঘনিষ্ঠ মহলে এও শোনা যাচ্ছে যে, নৈতিকতার কথা মাথায় রেখে বিজেপির বিধায়ক আসন ত্যাগ করতে পারেন তিনি। এমনকি এর বদলে তাকে রাজ্যসভার সাংসদ পদ দেওয়ার জল্পনাও শুরু হয়েছে। ঘনিষ্ঠ মহলে এমনটা শোনা যাচ্ছে যে, এই মুহূর্তে রাজ্যসভায় দুটি সংসদ আসন খালি হয়েছে তৃণমূলের। একদিকে যেমন নেই দীনেশ ত্রিবেদী অন্যদিকে তেমনি নেই মানস ভুঁইয়াও। আর সেখানেই মুকুল এবং যশবন্ত সিনহাকে পাঠাতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য কিছুদিন আগেই যশোবন্ত যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। আর এবার মুকুলের জন্যও ক্রমশ চওড়া হচ্ছে পথ।

ইতিমধ্যেই তৃণমূল ভবনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়েছে তার। বৈঠক শেষে হয়তোবা যোগ দলে দিতে পারেন তিনি। একদিকে যখন মুকুলের যোগ নিয়ে তৈরি হচ্ছে জল্পনা, তখন এও শোনা যাচ্ছে যে মুকুল রায়ের পথ ধরে দলে যোগ দিতে পারেন সব্যসাচী দত্ত, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়রাও। রাজনৈতিক কারবারিদের মতে এদের অনেকেরই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার নেপথ্যে ছিলেন মুকুল। তাই মুকুল রায় ফিরলে তাদের প্রতিও একটা বার্তা যাবে বলেই মনে করছে তৃণমূল কংগ্রেস।

অন্যদিকে দোনামোনা করছেন শুভ্রাংশুও। এমনকি দলের হারের পর আত্মসমালোচনা প্রয়োজন বলে সরাসরি ফেসবুক পোস্টও করেন তিনি। তারপর মুকুল রায়ের স্ত্রী অসুস্থ থাকার সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথা হয় শুভ্রাংশুর। তাই আগামী দিনে ঘটনা এখন কোন দিকে গড়ায়, সে দিকেই নজর থাকবে সকলের।

Related Articles

Back to top button