টাইমলাইনআন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে ফের সংখ্যালঘু হত্যা! দিনেদুপুরে দুই শিখ ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন পেশোয়ারে

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ অতীত হোক কিংবা সাম্প্রতিক সময়, পাঞ্জাবের অধিকাংশ মানুষকে খালিস্তানের দাবিতে অনড় থাকতে দেখা যায়। তবে তারা তাদের সেই দাবিতে যতই সরব হোক না কেন, বাস্তবে কিন্তু পাকিস্তান নিবাসী শিখদের পরিস্থিতি দিনের পর দিন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এদিন তৃতীয় শিখ গুরু অমর দাসের জয়ন্তী উৎসব পালন করা হয় আর এর মাঝেই পাকিস্তানের পেশোয়ার এলাকায় দুই শিখ যুবককে গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠল।

পেশায় ব্যবসায়ী রঞ্জিত সিং (42) এবং কুলজিৎ সিং (38) নামের দুই মধ্যবয়সী যুবককে গুলি করে এদিন হত্যা করা হয়। উল্লেখ্য, শিখ সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ বর্তমানে পাকিস্তানের পেশোয়ারে বসবাস করে। তবে বিগত কয়েক মাসে এখানে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হিংসার ঘটনা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। তাদের মতে, আফগানিস্তানে তালিবান সরকার নিজেদের সরকার কায়েম করার পর থেকেই তাদের ওপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছুদিন পূর্বে শিখদের ওপর হামলার প্রথম ঘটনা সামনে আসে আর এরপরে এদিন আবারো দুই যুবককে গুলি করে খুন করার ঘটনা ঘটলো।

স্বভাবতই এই ঘটনায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে শুধুমাত্র হত্যার ঘটনাই নয়, শিখ সম্প্রদায়ের মহিলাদের ধর্ষণ এবং তাদের জোর করে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ তুলেছে পেশোয়ারে বসবাসকারী শিখ সম্প্রদায়ের মানুষেরা। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এদিন রঞ্জিত এবং কুলজিৎ সিং নামের দুই যুবক সারবান্দ এলাকার বাট্টা তালচকের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। সেই সময় আচমকা সেখানে একটি বাইকে চড়ে দুই ব্যক্তি এসে তাদের গুলি করে পালায়। এই ঘটনার তৎক্ষণাৎ সেখানে মৃত্যু হয় তাদের।

এলাকাবাসীদের দাবি, ওই শিখদের খুন করার উদ্দেশ্যেই সেখানে হানা দেয় দুষ্কৃতীরা। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সতবন্ত সিং নামের অপর এক শিখ যুবককে একইভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। পেশায় ওষুধ বিক্রেতা ওই যুবকের হত্যার পিছনে ইসলামিক স্টেট অফ খোরাসান সংগঠনের হাত ছিল বলে জানা যায়। বলে রাখা ভালো, এই সংগঠনটি ইসলামিক স্টেট অফ আফগানিস্তানের একটি অংশ আর এ দিনকার এই ঘটনাতেও তাদের হাত রয়েছে বলে অনুমান এলাকাবাসীদের। তবে বর্তমানে তাদের ওপর এহেন হিংসার ঘটনায় কোনরকম পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য পাকিস্তান সরকারের নিন্দায় সোচ্চার হন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষেরা।

Related Articles

Back to top button