টাইমলাইনখেলা

করুণ কাহিনি! তীরন্দাজে এশিয়ান সিলভার মেডেল জয়ী নিশা দত্ত, বাড়ি মেরামতির জন্য ধনুক বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন

বাংলা হান্ট ডেস্ক : মাত্র তেরো বছর বয়স থেকে তীরন্দাজি কে নিজের নেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন নিশা দত্ত, আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে, ভারতের পরবর্তী জনপ্রিয় তিরন্দাজির তালিকায় তাঁর নাম প্রায় যুক্ত হয়েছিল বলাই যায়। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর ঝুলিতে উঠেছিল একাধিক পুরস্কারও। 2007 সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে নিশা রুপোর পদক জিতেছিলেন, ঠিক তার পরের বছরই একই প্রতিযোগিতায় নিশা ব্রোঞ্জের পদক জয়লাভ করেছিলেন, 2008 সালে দক্ষিণ এশিয়ার তিরন্দাজি চ্যাম্পিয়নশিপে আবারও তাঁর ঝুলিতে উঠেছিল রুপোর পদক।

2010 সালে তিনি তাঁর পারফরমেন্স দেখিয়ে তিরন্দাজিতে খেলার শীর্ষে পৌঁছেছিলেন, এক উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ তাঁকে হাতছানি দিচ্ছিল, কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ালেও প্রতিবন্ধকতা। পরিবারের আর্থিক দুর্বলতা তাঁর প্রতিভা প্রদর্শনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল ঠিক তার কয়েক বছর পরেই। তাঁর দুই বোনের বিয়ে দিতে এবং বাবা মাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে তিরন্দাজি কে পিছনে ফেলে পরিবারকে বড় করে গ্রহণ করতে হয়েছিল নিশাকে। এরপর তাঁকে কার্যত খেলা ছেড়ে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়

যেহেতু তাঁর বাবা পেশায় একজন কৃষক ছিলেন তাই তাঁকেও চাষের কাজে নানা ভাবে সাহায্য করতে হত তাঁকে, এমনকি এক সময় এমন খারাপ অবস্থা হয়েছিল যে তাঁদের মাটির এক চিলতে ঘর মেরামতির জন্য কোনও সাহায্য না পাওয়ায় পঞ্চাশ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁর ধনুক তিনি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই ধনুকের দাম চার লক্ষ টাকা সেটি অত্যন্ত কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিল নিশা

2012 সাল থেকে নিশাকে তীরন্দাজ এবং সংসার দুটো কি সামলাতে হয়েছিল। এখন তীরন্দাজি থেকে তাঁর নাম প্রায় মুছে গেছে, লোকমুখে তাঁর নাম শোনাই যায় না, হয়তো তাঁকে অনেকেই চিনতে পারবেন না। কিন্তু তাঁর অদম্য লড়াই তীরন্দাজের ইতিহাসে একমাত্র পাথেয় হয়ে থাকবে।