টাইমলাইনবিজ্ঞান

ঘনিয়ে আসছে বড় বিপদ? থমকে গিয়ে এবার বিপরীত দিকে ঘুরছে পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল

বাংলা হান্ট ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা দাবি করে আসছেন যে, ভূভাগ বরাবর অনবরত পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল ঘুরে চলেছে। পাশাপাশি, এই ঘূর্ণন সময় বিশেষে দিক পরিবর্তনও করে। অর্থাৎ, এহেন ঘূর্ণন সব সময় একমুখী হয় না। এদিকে, ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরি থেকে হঠাৎ অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে উপস্থিতি টের পাওয়া যায় পৃথিবীর “ইনার কোর” (Earth’s Inner Core) অর্থাৎ কেন্দ্রস্থলের। ইতিমধ্যেই এই প্রসঙ্গে নেচার জিওসায়েন্স একটি গবেষণার মাধ্যমে বিষয়টির ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেছে।

পাশাপাশি, এই গবেষণার সঙ্গে জড়িত বিজ্ঞানী এবং গবেষকেরা জানিয়েছেন যে, বর্তমানে পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল একটা দিক বরাবর ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎই থেমে যাওয়ার পর এবার বিপরীত দিকে ঘুরতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, ২০০৯ সালে পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ থমকে গিয়েছিল। আর তারপর থেকেই সেটি বিপরীত দিকে ঘুরতে শুরু করে। পাশাপাশি, এই প্রসঙ্গে গবেষকদের আরও মতামত সামনে এসেছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি সূত্রে জানা গিয়েছে, চিনের পিকিং ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলেছেন, প্রায় প্রতি ৩৫ বছর অন্তর পৃথিবীর ইনার কোর ঘূর্ণনের দিকটি পরিবর্তন করে। এদিকে, একটি সম্পূর্ণ ঘূর্ণন সম্পূর্ণ করতে ইনার কোরের প্রায় সাত দশক সময় লাগে। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে, ১৯৩৬ সালে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট তরঙ্গের গতিপ্রকৃতি পরীক্ষা করতে গিয়ে গবেষকরা “ইনার কোর”-এর আবিষ্কার করেন। যেটি বিভক্ত রয়েছে ক্রাস্ট, ম্যান্টল এবং কোর এই ৩ ভাগে।

এদিকে, ১৯৭০ সালের একদম গোড়ার দিকে পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলের ঘূর্ণনের অস্তিত্ব সম্পর্কে প্রথম টের পান বিজ্ঞানীরা। এমতাবস্থায়, তাঁরা অনুমান করেন যে, ২০৪০ সালের মাঝামাঝি সময়ে ফের দিক পরিবর্তন করে উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করতে পারে পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, পিকিং ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ১৯৯৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত হওয়া ভূমিকম্পের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে অনুমান করেছেন যে, পৃথিবীর কেন্দ্রের এহেন ঘূর্ণনের পরিবর্তনের পেছনে সম্ভাব্য কারণ হতে পারে দিনের দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন।

1674631810 5

এছাড়াও, কেন্দ্রস্থলের ঘূর্ণন পৃথিবী নিজের অক্ষে যে ভাবে প্রতিনিয়ত ঘুরে চলেছে, তার উপরেও সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনুমান গবেষকদের। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গবেষকরা এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, এর ফলে বিপদের কোনো আশঙ্কা নেই। শুধু তাই নয়, বিশ্ববাসী এই ঘূর্ণনের ফলে কিছু টেরও পাবেন না। তবে, গবেষকদের একাংশ দাবি করেছেন যে, ম্যান্টল এবং ক্রাস্টের ঘূর্ণনের গতিবেগের চেয়ে কোর এলাকার ঘূর্ণন প্রতি বছর বেড়ে চলেছে।

Related Articles