টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

আবেদন করেও হল না লাভ, পার্থ এবার জেলের পুজো থেকে ব্রাত্য, অন্যদিকে নতুন শাড়িতে অর্পিতা

বাংলাহান্ট ডেস্ক: নিয়তির বিচার কারও জন্য খুবই নির্মম তো কারও কাছে একটু সদয়। একমসময় নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘের পুজো আলো করে থাকতেন যিনি, প্রেসিডেন্সি জেলের পুজোয় তাঁর উপস্থিতির অনুরোধ গ্রাহ্য হয় না। শারদীয়া প্রায় সকলের জন্য শুভ হলেও কিছু মানুষের আবার এই বছরের শারদীয়া একদম ভালো কাটছে না। 

এক সময় পুজোর ক’টা দিন তাঁর ঠিকানা ছিল নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘের পুজোর মণ্ডপ। তবে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) বর্তমান ঠিকানা প্রেসিডেন্সি জেল। মহাষষ্ঠীতে জেলের দুর্গাপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকতে চেয়েছিলেন। 

কিন্তু গ্রাহ্য হয়নি তাঁর সেই আবেদন। শুধু তাই নয়, ষষ্ঠীর বিকেলে আরও একটি খারাপ খবর আসে তাঁর কাছে। এ বছরের ‘বিশ্ব বাংলা’ পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হয়েছে তাঁর পাড়ার পুজো। এই খবরে রীতিমতো মুষড়ে পড়েন পার্থ। শুধু ষষ্ঠীর সন্ধ্যাতেই নয়, গোটা মহাসপ্তমীতেই মন খারাপ ছিল তাঁর। রাতের খাবারও তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পড়েন।

অন্যদিকে, একই মামলায় অভিযুক্ত পার্থর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে ছবিটা অন্যরকম। তিনদিন আগে তাঁর আইনজীবী এবং এক আত্মীয় মিলে পুজোয় নতুন ৪টি শাড়ি দিয়ে গিয়েছেন। ওই শাড়ি পরেই পুজোর অনুষ্ঠানে মেতেছেন অর্পিতা। ষষ্ঠীর দুপুরে ওই শাড়ি পরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি সহ-বন্দিদের সঙ্গে পুজোর কাজে হাতও লাগান তিনি। 

গত ১৫ দিন ধরে মন খারাপ বলে কান্নাকাটি করলেও ষষ্ঠীর দিন অনেকটাই স্বাভাবিক দেখা গিয়েছে তাঁকে। কয়েক বছর ধরে নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’ ছিলেন অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। যদিও এই বছর নাকতলার পুজো নিয়ে বিশেষ মন্তব্য করেননি তিনি। 

পার্থ চট্টোপাধ্যায় রয়েছেন প্রেসিডেন্সি জেলের ‘পহেলা বাইশ’ ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডের পিছনের ক্লাবঘরেই হচ্ছে দুর্গাপুজো। বন্দিদের একাংশ এক মাস ধরে মণ্ডপ তৈরির কাজ করেছেন। ষষ্ঠীর দুপুর থেকেই সেখানে পুজো নিয়ে মেতে উঠেছেন সকলে। কারাকর্তারা পুজোর উদ্বোধনে আসছেন, তা জানতেন পার্থ। এরপরেই তিনিও ওই পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকতে চেয়ে আবেদন করেন। 

কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ জানান, পার্থের উপর অধিকাংশ বন্দিই ক্ষুব্ধ। তাঁকে দেখতে পেলেই তারা কটুক্তি করছেন বলে খবর। এছারাও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পার্থকে তাঁর সেলের বাইরে বার করলে অন্যান্য বন্দিদের লক-আপের ভিতর রাখতে হবে।

এবার জেলকর্তাদের যুক্তি, জেলের পুজো যেহেতু বন্দিদের জন্যই, সেই কারণে পুজোর কোনও অনুষ্ঠানে পার্থকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। যদিও বিজয়া দশমীর আগে কোনও এক সময় পার্থকে একবার পুজো মণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেল কর্তারা। 

কারারক্ষীদের একাংশ জানাচ্ছেন, দশ বছর ধরে প্রভাবশালী মন্ত্রী ও নেতা হওয়ায় জাঁকজমকের সঙ্গে নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘের পুজো করতেন। কিন্তু আচমকাই বদলে গিয়েছে পরস্থিতি। সেটাই কোনওভাবে মেনে নিতে পারছেন না তিনি। 

Related Articles